শুক্রবার, ১৩ই মার্চ, ২০২৬   |   ২৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফ্রান্সের স্থানীয় সরকার বা মিউনিসিপাল নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। এবারের নির্বাচনে প্যারিস ও এর আশপাশের শহরগুলোতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন সাতজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি ফরাসি সমাজের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বাংলাদেশিদের সম্পৃক্ত হওয়ার এক বড় সুযোগ।

নির্বাচনী লড়াইয়ে যারা আছেন:

১. এনকে নয়ন: ভিন্যু-সুর-সেইন এলাকা থেকে বামপন্থী দল ‘লা ফ্রঁস আনসুমি’ সমর্থিত প্যানেলে ডেপুটি মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে লড়ছেন। তিনি একজন পরিচিত সমাজকর্মী। নিজ প্রতিষ্ঠিত সংস্থা ‘সাফ’-এর মাধ্যমে কমিউনিটি সেবা দিয়ে তিনি ইতোমধ্যেই গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

২. রাব্বানী খান: প্যারিসের শহরতলি এস্তা পৌরসভা থেকে বর্তমান মেয়রের প্যানেলে পুনরায় কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। তিনি ২০২০ সালেও নির্বাচিত হয়েছিলেন।

৩. আকাশ বড়ুয়া: লা-কোরনুভ শহর থেকে কমিউনিস্ট পার্টি সমর্থিত প্যানেলে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হয়েছেন। তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা।

৪. আব্দুস সামাদ: ভিন্যু-সুর-সেইন এলাকা থেকে ‘লা ফ্রঁস আনসুমি’ প্যানেলে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

৫. নাসির উদ্দীন ভূঁইয়া: ব্যাংকার নাসির উদ্দীন লা-কোরনুভ এলাকায় মেয়র পদপ্রার্থী ওমারো দোকুরুর প্যানেলে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন।

৬. জুবাইদ আহমেদ: ফ্রান্স জাতীয় ক্রিকেট দলের এই খেলোয়াড় ইভরী-সুর-সেইন এলাকা থেকে ‘ফ্রন্ট পপুলেয়ার’ দলের হয়ে লড়ছেন।

৭. সরুফ সোদিওল: ২০২০ সালের আলোচিত প্রার্থী সরুফ এবারও সেইন্ট-ডেনিস এলাকা থেকে বর্তমান মেয়রের প্যানেলে নির্বাচন করছেন।

কেন এই অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ?

পৌরসভা বা স্থানীয় কাউন্সিলে বাংলাদেশি প্রতিনিধি থাকা মানে হলো অভিবাসী কমিউনিটির শিক্ষা, আবাসন এবং কর্মসংস্থানের সমস্যাগুলো সরাসরি মেয়রের দপ্তরে তুলে ধরা। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ফ্রান্স ও বাংলাদেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করতে পারবেন।

ফ্রান্সে ভোটাররা সরাসরি কাউন্সিলরদের ভোট দেন। পরবর্তীতে নির্বাচিত কাউন্সিলররা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে মেয়র হিসেবে বেছে নেন। যদি প্রথম দফার ভোটে (১৫ মার্চ) কোনো দল ৫০ শতাংশ ভোট না পায়, তবে দ্বিতীয় দফার (২২ মার্চ) ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version