বুধবার, ২৪ই জুন, ২০২৬   |   ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের চিরচেনা উন্মাদনা। কিন্তু এই চেনা সমীকরণের বাইরে গিয়ে, সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এক বিশাল জার্মান পতাকা বানিয়ে পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের এক সাধারণ কৃষক!

এই অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছেন মাগুরার ৭৭ বছর বয়সী আমজাদ হোসেন। এই বিশাল কাণ্ডের কারণে এলাকায় তিনি এখন সবার কাছে ‘ can বাংলাদেশের পতাকামানব’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। তবে জার্মানির প্রতি তাঁর এই গভীর ভালোবাসার পেছনে রয়েছে এক দারুণ আবেগী ও কৃতজ্ঞতার গল্প। ২০০৪ সালে তিনি এক জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় মৃত্যুর মুখে পড়েছিলেন। সেই সময় জার্মানির তৈরি একটি বিশেষ ওষুধের মাধ্যমে তিনি সুস্থ হয়ে নতুন জীবন ফিরে পান। আর সেই জীবন ফিরে পাওয়ার কৃতজ্ঞতা থেকেই জার্মানির প্রতি তাঁর এই অকৃত্রিম ভালোবাসার জন্ম।

জার্মানির প্রতি নিজের এই সম্মান ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে আমজাদ হোসেন তাঁর পৈতৃক জমিও বিক্রি করে দিয়েছেন। ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে মাত্র দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা বানিয়ে তিনি এই যাত্রা শুরু করেছিলেন। এরপর থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপ আসার সাথে সাথে তিনি পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়াতে থাকেন। আর চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে তাঁর সেই পতাকা রূপ নিয়েছে সাড়ে সাত কিলোমিটারে! এই বিশাল পতাকাটি তৈরি করতে লেগেছে প্রায় ৯ হাজার মিটার কাপড় এবং ১২ জন দর্জির টানা ৩ মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম।

আমজাদ হোসেনের এই অনন্য কীর্তি ও বিশাল পতাকা সরাসরি দেখতে এখন সারা দেশ থেকে প্রতিদিন অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী মানুষ তাঁর গ্রামে ছুটে আসছেন। এর আগের বিশ্বকাপগুলোতে তাঁর এই ভালোবাসার খবর পেয়ে ঢাকাস্থ জার্মান দূতাবাসের কূটনীতিকরা সরাসরি তাঁর গ্রামে এসে তাঁকে সম্মান জানিয়ে গেছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি উপহার হিসেবে পেয়েছেন জার্মান ফুটবল দলের আজীবন সদস্যপদও।

মাঠের ফুটবল কখনো সরাসরি গ্যালারিতে বসে দেখার সুযোগ না হলেও আমজাদ হোসেনের স্বপ্ন অনেক বড়। তিনি জানান, বেঁচে থাকলে আগামী বিশ্বকাপে এই পতাকার দৈর্ঘ্য তিনি নিয়ে যাবেন ১০ কিলোমিটারে। আর এই ঐতিহাসিক স্মারকটি যেন জার্মানির কোনো বড় জাদুঘরে স্থান পায় এটাই এখন এই পতাকামানবের জীবনের শেষ ইচ্ছা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version