ইতালির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মনফালকনের ‘সান পলো’ হাসপাতালের মর্গে বেশ কয়েকদিন ধরে পরিচয়হীন অবস্থায় পড়ে থাকা সেই বাংলাদেশি প্রবাসীর পরিচয় মিলেছে। বেশ কয়েকদিন ধরে কোনো ওয়ারিশ না পাওয়ায় লাশটি মর্গে পড়ে ছিল। স্থানীয় প্রবাসী কমিউনিটি ও প্রশাসনের প্রচেষ্টায় তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর জানা গেছে, মৃত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ কালাম, বয়স প্রায় ৩৬ বছর।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে কোনো বৈধ কাগজপত্র বা স্বজনদের তাৎক্ষণিক উপস্থিতি না থাকায় লাশটি হাসপাতালের হিমঘরে (মর্গ) রাখা হয়। বেশ কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও কেউ লাশের দায়িত্ব নিতে না আসায় স্থানীয় প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা এগিয়ে আসেন। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্থানীয় প্রবাসীদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে লাশের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত তার পাসপোর্ট বা ব্যক্তিগত নথির সূত্র ধরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।
মৃত মোহাম্মদ কালামের দেশের বাড়ি বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার, মুছাপুর ইউনিয়নের, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান নগর এলাকায় বলে জানা গেছে। তিনি দীর্ঘ দিন ধরে মনফালকনে এলাকায় কর্মরত ছিলেন। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বর্তমানে লাশটি দেশে পাঠানোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে তিনি বৈধ না অবৈধ অভিবাসী ছিলেন এবং তার পরিবার লাশ দেশে নেওয়ার খরচ বহন করতে পারবে কি না, তা নিয়ে স্থানীয় কমিউনিটি কাজ করছে।
উল্লেখ্য, মনফালকনে শহরটি শিপইয়ার্ড ও শিল্পাঞ্চল হওয়ার কারণে এখানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী বসবাস করেন। প্রবাসীদের মধ্যে অনেকে একাকী বসবাস করায় বা পরিবারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ না থাকায় এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে পরিচয় খুঁজে পেতে বেগ পেতে হয়।
এদিকে, প্রবাসে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঘটলে দ্রুত পরিচয় নিশ্চিত করতে আপনার পাসপোর্ট বা পরিচয়পত্রের ফটোকপি এবং অন্তত একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির ফোন নম্বর সবসময় সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন কমিউনিটি নেতারা।
