ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত এক অভিযানে উগ্রবাদে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ৩৭ বছর বয়সী একজন বাংলাদেশি নাগরিককে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ইতালির জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে তাকে এই বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়।
সম্প্রতি ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফেরত পাঠানো ওই বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ দিন ধরে ইতালির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরদারিতে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি অনলাইনে উগ্রবাদী প্রচারণার সাথে যুক্ত ছিলেন এবং জঙ্গি আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় তরুণদের রেডিকালাইজড (উগ্রবাদী) করার চেষ্টা করছিলেন।
ইতালির আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অভিযুক্ত বাংলাদেশি নাগরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর সমর্থনে ভিডিও এবং লেখা পোস্ট করতেন। তার বিরুদ্ধে, ইতালির মাটিতে বসে বিদেশের কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের হয়ে অর্থ সংগ্রহ বা নেটওয়ার্ক তৈরির অভিযোগও খতিয়ে দেখা হয়েছে বলেও জানানো হয়। এছাড়া তিনি দেশটির সংবিধান এবং নিরাপত্তার জন্য সরাসরি ঝুঁকি তৈরি করছিলেন বলে আদালত তাকে বহিষ্কারের আদেশ দেন।
বহিষ্কারের আদেশের পর গত সপ্তাহে তাকে রোমের একটি ডিটেনশন সেন্টার থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় লিওনার্দো দা ভিঞ্চি বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে সরাসরি ঢাকাগামী ফ্লাইটে করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বহিষ্কারের পর তাকে আগামী কয়েক বছরের জন্য ইতালি তথা সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের শুরু থেকেই ইতালি সরকার অবৈধ অভিবাসন এবং ধর্মীয় উগ্রবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। চলতি বছর পর্যন্ত প্রায় ১২০ জনের বেশি বাংলাদেশিকে বিভিন্ন কারণে (বেশিরভাগই অবৈধভাবে অবস্থান) ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে উগ্রবাদের অভিযোগে বহিষ্কারের ঘটনাটি প্রবাসীদের মধ্যে বিশেষ সতর্কতা তৈরি করেছে।
ঢাকায় অবস্থিত ইতালি দূতাবাস থেকে জানানো হয়েছে, যারা বৈধ ভিসা বা জাল নথিপত্র ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করছেন অথবা সেখানকার আইন লঙ্ঘন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
