ইতালির জর্জিয়া মেলোনি সরকার নাগরিকত্ব আইনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনায় চরম বিপাকে পড়েছেন কয়েক প্রজন্ম আগের বংশসূত্রে নাগরিকত্ব প্রত্যাশী হাজার হাজার মানুষ। গত বছরের মে মাস থেকে কার্যকর হওয়া এই নতুন আইনের ফলে এখন কেবল তারাই ইতালীয় নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারছেন, যাদের বাবা-মা বা দাদা-দাদি সরাসরি ইতালীয় নাগরিক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে প্রচলিত ‘ইউস সাঙ্গুইনিস’ বা ‘রক্তের অধিকার’ নীতি অনুযায়ী ১৮৬১ সালের পর থেকে যেকোনো বংশধরের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকলেও নতুন আইনে দূরবর্তী পূর্বপুরুষের সূত্রে আবেদনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এই আইনি পরিবর্তনের ফলে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন মার্কিন নাগরিকরা। ক্যালিফোর্নিয়ার সাবরিনা ক্রফোর্ডের মতো অনেক আমেরিকান, যারা দীর্ঘ বছর ধরে নথিপত্র জোগাড় করছিলেন, তাদের স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে আসছে। বর্তমানে ইতালির সুপ্রিম কোর্টে দুটি মার্কিন পরিবার এই আইনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। তাদের মূল যুক্তি হলো, আইনটি পেছনের তারিখ থেকে কার্যকর করা অসাংবিধানিক এবং জন্মগতভাবে প্রাপ্ত ‘রক্তের অধিকার’ কোনো নতুন আইন দিয়ে কেড়ে নেওয়া যায় না। এখন হাজার হাজার আবেদনকারী সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব কেবল তাদেরই দেওয়া উচিত যাদের দেশের সাথে প্রকৃত যোগসূত্র রয়েছে। মূলত পাসপোর্টের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ এবং কনস্যুলেটগুলোতে জমে থাকা আবেদনের পাহাড় কমাতেই এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, ইতালি যখন তীব্র জনতাত্ত্বিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং জনসংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে, তখন বংশধরদের নাগরিকত্বের পথ বন্ধ করা আত্মঘাতী হতে পারে। একদিকে অভিবাসীদের সন্তানদের নাগরিকত্বে বাধা, অন্যদিকে বংশধরদের পথ রুদ্ধ করা—সব মিলিয়ে ভবিষ্যতের ইতালীয় নাগরিক কারা হবেন, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
