রবিবার, ২৬শে জুলাই, ২০২৬   |   ১১ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভিবাসন সংক্রান্ত বিপুল মামলার জট কমাতে ও আইনি প্রক্রিয়া দ্রুত করতে বিশেষায়িত আদালত গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে পর্তুগাল সরকার। মূলত দেশটির মূল অভিবাসন সংস্থা ‘আইমা’র (AIMA) বিরুদ্ধে ওঠা হাজার হাজার মামলার চাপ সামলাতে হিমশিম খাওয়া লিসবন প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম সহজ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পর্তুগালের ‘জাতীয় অভিবাসী সংহতি পরিকল্পনা’র অংশ হিসেবে চলতি ২০২৬ সালের শুরু থেকেই এই নীতিগত পরিবর্তনগুলো কার্যকর করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে আইমার বিরুদ্ধে দায়ের করা আইনি মামলার বিচারিক এখতিয়ার রয়েছে কেবল লিসবন ট্রাইব্যুনালের ওপর। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘জর্নাল দে নোতিসিয়াস’ জানায়, নতুন নিয়ম অনুমোদিত হলে প্রবাসীরা আর শুধু লিসবনে নয়, বরং নিজ নিজ এলাকার আদালতে মামলা করতে পারবেন।

বর্তমানে লিসবন ট্রাইব্যুনালে আইমার বিরুদ্ধে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মামলা অমীমাংসিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত একটি আবেদনের চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত পেতে গড়ে প্রায় ২ বছর ৪ মাস পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে। মূলত এই দীর্ঘসূত্রতা নিরসন করতেই প্রবেশ, অবস্থান, বহিষ্কার ও আন্তর্জাতিক সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা বিশেষায়িত বিচার বিভাগ তৈরি করা হচ্ছে।

পর্তুগালের প্রশাসনিক বিচার ব্যবস্থার এই ধারাবাহিক অবনতি নিয়ে সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনও তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইইউ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রশাসনিক মামলা নিষ্পত্তির হার ছিল মাত্র ৪৮ শতাংশ। নতুন উদ্যোগের ফলে প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের আইনি ভোগান্তি কমবে এবং দ্রুত আবেদন নিষ্পত্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: এস আই সি নোটিসিয়াস 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version