বাংলাদেশ এবং রোমা সম্প্রদায়কে জড়িয়ে বিতর্কিত স্লোগানযুক্ত প্রপাগান্ডা বিলবোর্ড নিয়ে চরম বিতর্কের মুখে পড়েছেন পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী আন্দ্রে ভেঞ্চুরা। ‘জিপসিদের অবশ্যই আইন মেনে চলতে হবে’ এবং ‘এটি বাংলাদেশ নয়’, এমন বিতর্কিত স্লোগানের কারণেই আন্দ্রে ভেঞ্চুরাকে ১৮ ডিসেম্বর আবারও আদালতে হাজিরা দিতে হয়েছে। ব্যক্তিগত অধিকার সুরক্ষার আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং জনসমক্ষে থাকা ওই পোস্টারগুলো অপসারণের দাবিতে বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে পৌঁছানোর পর আন্দ্রে ভেঞ্চুরা সাংবাদিকদের জানান যে…
আদালত যদি পোস্টারগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয়, তাহলে তা হবে ‘পর্তুগালের গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো দিন’।
‘শেগা’ রাজনৈতিক দলের এই নেতা আবারও কড়া ভাষায় বলেছেন, তিনি বিলবোর্ডের বার্তার জন্য ক্ষমা চাইবেন না বা তার অবস্থান পরিবর্তন করবেন না।
ভেঞ্চুরা মনে করেন, কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় সম্পর্কে সাধারণীকরণ বিপজ্জনক, কিন্তু দায়মুক্তির সংস্কৃতিকে সাধারণীকরণ আরও বেশি বিপজ্জনক। তার দাবি, রোমা সম্প্রদায় যা খুশি তাই করে কারণ কেউ তাদের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করে না। রোমা (জিপসি) সম্প্রদায়ের সদস্যদের পক্ষ থেকে ভেঞ্চুরার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তাদের প্রতিনিধিত্ব করছেন আইনজীবী রিকার্ডো সা ফার্নান্দেস।
১৬ ডিসেম্বরেও আদালতে আসতে হয়েছিল রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী আন্দ্রে ভেঞ্চুরাকে। সেদিন আদালতের প্রবেশপথে তিনি বলেন, আদালত যে সিদ্ধান্ত নেবে, তা ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন কেউ বলে যে, কাউকে আইন মেনে চলতে হবে, তখন রোমা সম্প্রদায় কীভাবে অপমানিত হয় তা ভেঞ্চুরা বুঝতে পারছেন না বলে সাংবাদিকদের কাছে জানান। তিনি আরও বলেন, তার দৃষ্টিতে রোমারা আইন মেনে চলে না।
এর আগে এই উগ্র-ডানপন্থী নেতা সাংবাদিকদের বলেছিলেন…
আমি ক্ষমা চাওয়ার আগে রোমা সম্প্রদায়কে পর্তুগালে গত ৫০০ বছর ধরে আইন অমান্য করা এবং একীভূত হতে অস্বীকার করার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। ‘নরম কথা’র সময় শেষ। আপনারা কি মনে করেন আদালত আমাকে ক্ষমা চাইতে বলবে? আমরা কি উত্তর কোরিয়া বা ভেনেজুয়েলা হয়ে গেছি? একজন রাজনীতিবিদ যখন বলেন রোমা সম্প্রদায়কে আইন মানতে হবে, তখন কি আদালত তাকে মত পরিবর্তন করতে বলবে? সেটা অন্য কোনো যুগে হতে পারত, এখন নয়।
২০২৬ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে, আন্দ্রে ভেঞ্চুরার ছবিসহ দুটি পোস্টার ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। পোস্টারগুলো রোমা এবং বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে তৈরি। ঘটনাটি তাত্ত্বিকভাবে এই রাজনীতিবিদের ‘বাকস্বাধীনতা’ বনাম পর্তুগিজ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় ‘বর্ণবাদ ও বিদেশি-বিদ্বেষ উসকে দেওয়া’র বিষয়টিকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
