সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬   |   ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তুরস্কে সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ, গ্রেপ্তার ও সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে শনিবার ইস্তাম্বুল ও আঙ্কারায় বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নিতে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করা হচ্ছে।

বিক্ষোভে সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় তারা ‘যথেষ্ট হয়েছে, আমরা আর শ্বাস নিতে পারছি না’ এবং ‘আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না’ বলে স্লোগান দেন।

তুরস্কের সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই মাসে দেশটিতে ১১ জন সাংবাদিককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সময়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশের হিসাবে, ইস্তাম্বুলের এশীয় অংশে প্রায় তিন হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। আঙ্কারাতেও অন্তত তিন হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন। সেখানে তারা ‘সেন্সরশিপ চলবে না’ এবং ‘কারাবন্দি সাংবাদিকদের মুক্তি চাই’ বলে স্লোগান দেন।

২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ অভ্যুত্থানচেষ্টার পর থেকে দেশটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। এ সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা ও বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে তথ্যপ্রবাহের ওপরও সেন্সরশিপ আরোপ করা হয়। অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে তুরস্কের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম হাল্ক টিভিতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় চ্যানেলটির সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং সেখানে সরকারনিযুক্ত একজন প্রশাসক বসানো হয়। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও তাঁর সরকারের সমালোচক হিসেবে পরিচিত সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সর্বশেষ ঘটনা এটি।

এর আগে দেশটির শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম টোয়েন্টিফোরের ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ এর কারণ হিসেবে ‘সমকামী ও লিঙ্গবৈচিত্র্যবিষয়ক প্রচারণার’ অভিযোগ তুলে ধরে।

‘ভয় দেখিয়ে নীরব করার চেষ্টা’
ইস্তাম্বুলের বিক্ষোভের পর বার্তা সংস্থা এএফপিকে প্রবীণ সাংবাদিক জাফের আরাপকিরলি বলেন, এই সমাবেশ শুধু সাংবাদিকদের প্রতি সংহতি জানানোর বিষয় নয়; বরং সমাজের মানুষের তথ্য ও সংবাদ জানার অধিকার রক্ষারও লড়াই।

দৈনিক বিরগুনের এই কলাম লেখক নিজেও কয়েকটি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। তাঁর মতে, সাংবাদিকদের ওপর চাপ যত বাড়বে, এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সংকল্পও তত শক্তিশালী হতে হবে।
আরাপকিরলি বলেন, সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার, সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া, সংবাদ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে সরকার সমাজের মানুষকে ভয় দেখিয়ে নীরব করতে চায়।

তিনি বলেন, “আমাদের দেখাতে হবে যে আমরা এমনটা হতে দেব না। এত দিন আমরা তা করে এসেছি। আমার বিশ্বাস, এখন আমরা আরও বড় পরিসরে এই দৃঢ়তা দেখানোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”

অন্যদিকে, বন্ধ করে দেওয়া সংবাদমাধ্যম টোয়েন্টিফোরের সমন্বয়ক গোকচের তাহিনজিওলু আঙ্কারায় এএফপিকে বলেন, শনিবারের বিক্ষোভ দুটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সাংবাদিকেরা একত্র হয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন। দ্বিতীয়ত, নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার রক্ষার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

তিনি বলেন, সাংবাদিকেরা স্পষ্টভাবে জানাতে চান যে তাঁরা সাংবাদিকতা করতে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ পেতে চান।

টোয়েন্টিফোরের প্রতি সংহতি জানানোয় বিক্ষোভকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তাহিনজিওলু বলেন, স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে আনতে চান তাঁরা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version