আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সংঘাত বৃদ্ধি পেলেও গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অভিবাসীদের দেশে ফেরত পাঠানোর নীতিতে অনড় অবস্থান নিয়েছে জার্মানি। এই সপ্তাহের শুরুতে হামবুর্গের কারাগার থেকে সরাসরি ইস্তাম্বুল হয়ে দুই আফগান নাগরিককে কাবুলে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই প্রক্রিয়া প্রায় বন্ধ থাকলেও, সম্প্রতি জার্মান সরকার অপরাধী অভিবাসীদের ক্ষেত্রে এই কঠোর পদক্ষেপ পুনরায় শুরু করেছে।
জার্মান অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে একজন ৩০ বছর বয়সী পুরুষ, যিনি বারবার শারীরিক হেনস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের ওপর হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তাঁকে গত শুক্রবার পাঠানো হয়। অন্যজন ৩২ বছর বয়সী ব্যক্তি, যিনি সশস্ত্র চুরি, বারবার শারীরিক আঘাত এবং হুমকির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে গত সোমবার কাবুলের উদ্দেশ্যে জার্মানি ত্যাগ করেন।
হামবুর্গের অভ্যন্তরীণ সেনেটর অ্যান্ডি গ্রোটে (এসপিডি) এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ‘‘জনগণের নিরাপত্তা তাদের থাকার অধিকারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ যারা সেই নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। অপরাধী যে দেশেরই হোক না কেন, তাদের দেশ ছাড়তে হবে।’’ জার্মানির অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট জানিয়েছেন, জার্মান সমাজ চায় অপরাধীরা দেশ ত্যাগ করুক, তাই সরকার ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া আরও বাড়াচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেই জার্মানি ২০ জন আফগান নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে যারা বিভিন্ন যৌন অপরাধ ও মাদক কারবারে জড়িত ছিল।
জার্মান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তালেবান শাসনকে স্বীকৃতি না দিলেও, গত কয়েক মাস ধরে কাবুলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এই সরাসরি ফেরত পাঠানোর চুক্তিটি সম্পন্ন করেছে। তবে এই পদক্ষেপ নিয়ে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক দেশগুলোকে আফগানিস্তানে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেছেন। সমালোচকদের মতে, আফগানিস্তান এখনো অনিরাপদ এবং বিশেষ করে নারী ও সংখ্যালঘুদের অধিকার সেখানে চরমভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
আশ্রয় তথ্য ডেটাবেস (এআইডিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত জার্মানিতে আফগান নাগরিকদের ৩৬ হাজার ৫৭৮টি আশ্রয়ের আবেদন বিচারাধীন রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জার্মানিতে ডানপন্থি দল ‘এএফডি’ র ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং অভিবাসন-বিরোধী জনমতের কারণেই সরকার এই কঠোর নীতি গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে।
