ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে ট্রেন ও বাসে করে পর্তুগালে কাগজপত্রহীন বা অবৈধ অভিবাসীদের আগমন বাড়ছে বলে সতর্ক করেছে দেশটির জননিরাপত্তা পুলিশ (পিএসপি)। গত রবিবার পিএসপি জানিয়েছে, লিসবন ও পোর্তো মেট্রোপলিটন এলাকায় এই ঝুঁকিগুলো স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
পিএসপির ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর এবং জাতীয় বিদেশি ও সীমান্ত ইউনিট (ইউএনইএফ)-এর প্রধান চিফ সুপারিনটেনডেন্ট জোয়াও রিবেইরো বলেন, ‘আমরা বিশেষ করে লিসবন ও পোর্তো মেট্রোপলিটন এলাকায় সড়ক ও রেলপথে দেশে প্রবেশকারী নাগরিকদের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকির কারণ চিহ্নিত করেছি। তাঁরা অন্য দেশগুলোতে অনিয়মিত অবস্থায় আছেন এবং শেনজেন এলাকার মধ্যে এক দেশ থেকে অন্য দেশে চলাচল করার চেষ্টা করছেন।’
তিনি জানান, বিষয়টি সম্পূর্ণ নতুন না হলেও তথ্যের বিশ্লেষণ থেকে দেখা যাচ্ছে যে পর্তুগালের ক্ষেত্রে এই ধরনের ‘সেকেন্ডারি মুভমেন্টস’ বা দ্বিতীয় ধাপের চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জোয়াও রিবেইরো নির্দিষ্ট করে বলেন যে মানুষ বাস টার্মিনাল এবং প্রধান রেলস্টেশনের মাধ্যমে পর্তুগালে পৌঁছাচ্ছে এবং পিএসপি এই স্থানগুলোতে ‘মোবাইল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ’ বা মোবাইল বর্ডার কন্ট্রোল পরিচালনার সক্ষমতা রাখে।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে তাদের উদ্দেশ্য পর্তুগালে স্থায়ীভাবে বসবাস করা নাও হতে পারে। ধরুন, কোনো নাগরিক নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম বা ফ্রান্সে প্রবেশ করার পর এমন পরিস্থিতির মুখে পড়লেন যেখান থেকে তাঁদের চলে যেতে হয় এবং কোনো আইনি বৈধতা ছাড়াই তারা এই সেকেন্ডারি মুভমেন্টের মাধ্যমে একপর্যায়ে পর্তুগালে এসে পৌঁছান।’
তিনি আরও যোগ করেন, অনেক সময় তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য থাকে আয়ারল্যান্ডের মতো অন্য কোনো দেশে চলে যাওয়া, যেখানে বিমান সীমান্ত ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভেতর থেকে এই সেকেন্ডারি মুভমেন্টের মাধ্যমে যে পরিস্থিতিগুলো শনাক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে পর্তুগিজ ভূখণ্ড ছাড়তে বিমান সীমান্ত ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা গেছে, তা থেকে স্পষ্ট যে পর্তুগালের ক্ষেত্রে এই চলাচল বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নে সামগ্রিক অবৈধ প্রবেশের হার ৩৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
পিএসপির ডেপুটি ন্যাশনাল ডিরেক্টর এটিকে ‘উদ্বেগের কারণ’ বলে অভিহিত করেছেন এবং আগামী মাসগুলোতে এই পরিবহন কেন্দ্রগুলো এবং নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী সম্প্রদায়ের উপস্থিতি রয়েছে এমন এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর কথা বলেছেন।
জোয়াও রিবেইরো উল্লেখ করেন যে ট্রেন বা বাসে করে কাগজপত্রহীন অভিবাসীদের আসার পাশাপাশি পর্তুগালকে বিমান সীমান্তের মাধ্যমে অন্যান্য ইইউ দেশগুলোর ‘প্রবেশদ্বার’ হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বহিরাগত সীমান্তগুলো একটি ঝুঁকির কারণ, তবে বর্তমানে আমাদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলো এই সেকেন্ডারি মুভমেন্টগুলো, অর্থাৎ ইইউ এলাকার ভেতরে যা ঘটছে এবং যেখানে পর্তুগালকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর জন্য আমাদের অন্যান্য সীমান্ত পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে অংশীদারত্ব রয়েছে।’
জোয়াও রিবেইরো জানান, কিছু বিদেশি নাগরিক বিমানপথে দেশে পৌঁছালেও তাঁদের উদ্দেশ্য পর্তুগালে থাকা নয়, বরং উত্তর ইউরোপে যাওয়া—যেখানে তাঁদের নিজ সম্প্রদায়ের মানুষ ও পরিবারের সদস্যরা বসবাস করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কৌশল সবসময়ই পর্তুগিজ সীমান্তের সুনাম রক্ষা করার বিষয়টিতে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে, কারণ অতীতে এমন বার্তা ছড়িয়ে পড়েছিল যে পর্তুগালে প্রবেশ করা খুব সহজ। আমাদের প্রাথমিক উদ্বেগ হলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণকে দক্ষ ও কার্যকর করা।’
