মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো বন্ধে দেশব্যাপী বিশেষ সড়ক নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে পর্তুগাল। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) শুরু হওয়া এ অভিযান চলবে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত। এ সময়ে দেশজুড়ে বাড়ানো হবে পুলিশের নজরদারি ও অ্যালকোহল পরীক্ষা।
‘ট্যাক্সা জেরো আও ভোলান্তে’ বা ‘স্টিয়ারিংয়ে শূন্য অ্যালকোহল’ নামে এ যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (এএনএসআর), পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ (পিএসপি) ও ন্যাশনাল রিপাবলিকান গার্ড (জিএনআর)।
এএনএসআর পর্তুগালজুড়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাবে। পাশাপাশি পিএসপি ও জিএনআর সদস্যরা সড়কে তল্লাশি ও নজরদারি বাড়াবেন। বিশেষ করে মদ্যপান করে গাড়ি চালানো এবং গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযান শুরুর আগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ভয়াবহতা তুলে ধরেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পর্তুগালে ময়নাতদন্ত হওয়া প্রতি ১০০ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের মধ্যে ২৮ জনের রক্তে আইনসিদ্ধ সীমার চেয়ে বেশি অ্যালকোহল পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৭৮ শতাংশের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা এমন পর্যায়ে ছিল, যা দেশটির আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এএনএসআর, পিএসপি ও জিএনআর এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো সড়কের সব ব্যবহারকারীর জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য ঝুঁকি’ তৈরি করে। অল্প পরিমাণ অ্যালকোহল গ্রহণ করলেও চালকের প্রতিক্রিয়া, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
২০২৫ সালে পর্তুগালের সড়কগুলোতে প্রায় ২১ লাখ অ্যালকোহল পরীক্ষা চালায় পুলিশ। এর মধ্যে ১ দশমিক ৬ শতাংশ পরীক্ষার ফল পজিটিভ আসে। একই বছর দেশটিতে নথিভুক্ত মোট সড়ক আইন লঙ্ঘনের প্রায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ ছিল মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনা।
কর্তৃপক্ষ বলছে, সড়ক দুর্ঘটনায় অ্যালকোহলের ভূমিকা এখনো গুরুতর। এ কারণেই চালকদের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি না চালানোর বিষয়ে সচেতন করতে এবং আইন প্রয়োগ জোরদার করতেই এই বিশেষ অভিযান।
