পর্তুগালের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও জোসে সেগুরো জনসমক্ষে মুখ ঢাকা বা মুখমণ্ডল আড়াল করার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ সংক্রান্ত বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত বিলটি অনুমোদন করেছেন। দেশটির গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে এটি ‘বোরকা আইন’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয় বেলেম প্যালেস (Belém Palace) থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আইনটি একটি অত্যন্ত ‘সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীল বিষয়’ এবং এখানে নাগরিকদের ব্যক্তিগত অধিকার ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল। তবে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় খসড়া আইনে প্রয়োজনীয় কিছু সংশোধনী আনার পর প্রেসিডেন্ট এই ডিক্রি বা বিলে সই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নতুন এই আইন অনুযায়ী, জনসমক্ষে নিরাপত্তা ও সনাক্তকরণের স্বার্থে সবার মুখমণ্ডল দৃশ্যমান রাখতে হবে। তবে আইনে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ছাড়ের বিধান রাখা হয়েছে।
গত ১৭ জুলাই পর্তুগালের জাতীয় সংসদে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়। ক্ষমতাসীন পিএসডি (PSD), কট্টর ডানপন্থী দল শেগা (Chega), লিবারেল ইনিশিয়েটিভ এবং সিডিএস-পিপি (CDS-PP)-এর সংসদ সদস্যরা বিলটির পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, সংসদের বামপন্থী দলগুলো এই বিলের বিপক্ষে ভোট দেয় এবং প্যান (PAN) দলের একমাত্র সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।
ইসলাম ও অভিবাসন নিয়ে শেগা এমপির আক্রমণাত্মক বক্তব্য
বিলটি অনুমোদনের পর পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মাদেইরা অঞ্চলের শেগা দলের সংসদ সদস্য ফ্রান্সিসকো গোমেস। তিনি সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি ইসলাম ধর্ম এবং অভিবাসন নিয়ে বেশ কিছু বিতর্কিত ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন।
গোমেস দাবি করেন, পর্তুগাল বর্তমানে ‘অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন’-এর মুখোমুখি এবং ইসলাম ধর্ম কোনোভাবেই পশ্চিমা মূল্যবোধ ও পর্তুগিজ সমাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ইসলামিক সম্প্রদায় পর্তুগিজ সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ার পরিবর্তে নিজেদের বিশ্বাস, প্রথা ও কানুন জোরপূর্বক চাপিয়ে দিতে চায়, যা তাঁর মতে আগ্রাসী ও আক্রমণাত্মক। নিজের এই দাবির সপক্ষে তিনি ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উদাহরণ টানেন।
তবে সংসদ সদস্য ফ্রান্সিসকো গোমেসের এই বক্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত ও কট্টর ডানপন্থী শেগা দলের রাজনৈতিক এজেন্ডা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মাদেইরার শান্তিকামী মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আনা এই ধরনের ঢালাও ও স্পর্শকাতর অভিযোগের সপক্ষে গোমেস তাঁর বিবৃতিতে কোনো তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
