পর্তুগালে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য একটি বড় আনন্দের খবর এসেছে। দেশটিতে জন্ম নেওয়া বিদেশী শিশুদের রেসিডেন্স পারমিট বা সেখানে বৈধভাবে থাকার প্রক্রিয়া অনেক সহজ করা হয়েছে। এই কাজ দ্রুত করার জন্য একটি নতুন ডিজিটাল পোর্টাল বা অনলাইন সুবিধা চালু করেছে পর্তুগালের অভিবাসন দপ্তর ‘আইমা’ (AIMA)।
এখন থেকে পর্তুগালের অভিবাসন আইনের ১২৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, পর্তুগিজ মাটিতে জন্ম নেওয়া বিদেশী শিশুদের রেসিডেন্সির জন্য আর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না। ‘আইমা’-র অনলাইন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সরাসরি ঘরে বসেই ডিজিটাল আবেদন করা যাবে এবং অফিসে যাওয়ার দিন বা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং করা যাবে। এর ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন সম্পূর্ণ কম্পিউটারের মাধ্যমে ঘরে বসেই করা সম্ভব।
আবেদন করার মূল নিয়ম ও শর্তাবলী:
কারা সুবিধা পাবেন: এই নতুন অনলাইন সুবিধাটি শুধুমাত্র পর্তুগালের মাটিতে জন্ম নেওয়া সেইসব বিদেশী শিশুদের জন্য প্রযোজ্য, যাদের বাবা অথবা মায়ের মধ্যে যেকোনো একজনের কাছে পর্তুগালের বৈধ রেসিডেন্স পারমিট বা বৈধ কার্ড রয়েছে।
আলাদা ফর্ম পূরণ: পরিবারের একাধিক শিশু থাকলে প্রতিটি শিশুর জন্য সম্পূর্ণ আলাদা এবং নতুন ডিজিটাল ফর্ম পূরণ করতে হবে। ফর্মে বাবা-মায়ের তথ্য নয়, বরং সুনির্দিষ্টভাবে ওই শিশুর পাসপোর্ট এবং জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী সব তথ্য নির্ভুলভাবে লিখতে হবে।
৬ মাসের সময়সীমা: পর্তুগালের আইন অনুযায়ী, শিশুর জন্ম নিবন্ধনের পর থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের মধ্যে এই রেসিডেন্সির আবেদন শেষ করতে হবে। ৬ মাস পার হয়ে গেলে বা কোনো নথিপত্র কম থাকলে আবেদনটি সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে বলে অভিবাসন দপ্তর ‘আইমা’ কড়াভাবে জানিয়ে দিয়েছে।
অনলাইনে ফরম পূরণ করার সময় নিচের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পরিষ্কার স্ক্যান কপি বা ছবি আপলোড করতে হবে:
১. পর্তুগালের সিভিল রেজিস্ট্রি অফিস থেকে দেওয়া শিশুর মূল জন্ম সনদ বা বার্থ সার্টিফিকেট।
২. যে অভিভাবকের বৈধ রেসিডেন্সি আছে, তাঁর পাসপোর্টের স্পষ্ট কপি।
৩. ওই অভিভাবকের বৈধ পর্তুগিজ রেসিডেন্স কার্ড বা টাইটেল।
৪. যদি থাকে, তবে অন্য অভিভাবকেরও রেসিডেন্স সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
পর্তুগালে আগে অভিবাসন দপ্তরের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার জন্য প্রবাসীদের মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করতে হতো। নতুন জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য এই আলাদা অনলাইন পোর্টাল চালু হওয়ায় হাজার হাজার প্রবাসী পরিবার অত্যন্ত দ্রুত ও সহজে তাদের সন্তানদের আইনি কাগজপত্রের আওতায় নিয়ে আসতে পারবেন। এই সুবিধার কারণে পর্তুগালে থাকা বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী পরিবারও বড় ধরনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
তথ্যসূত্র: দ্য পর্তুগাল নিউজ
