পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের হুমবার্তো ডেলগাডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবৈধ অভিবাসন রোধে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে দেশটির পাবলিক সিকিউরিটি পুলিশ (পিএসপি)। এই অভিযানে জাল পাসপোর্ট ও ভুয়া ভ্রমণ নথি ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করা ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের প্রবেশ বাতিল করা হয়েছে এবং একাধিক জনের বিরুদ্ধে শেনজেন অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
পিএসপি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৫ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত কয়েকদিনব্যাপী এই অভিযান পরিচালিত হয়। বিমানবন্দরের আগমন ও ট্রানজিট এলাকাকে কেন্দ্র করে চালানো তল্লাশিতে অবৈধ অভিবাসন চক্রের একাধিক কৌশল ধরা পড়ে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের কাছে ভুয়া পাসপোর্ট, জাল ভিসা ও নকল ট্রাভেল ডকুমেন্ট পাওয়া গেছে। এসব নথি ব্যবহার করে তারা পর্তুগাল হয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কয়েকজন এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক।
এছাড়া দুই ব্যক্তি অন্যের নামে ইস্যু করা বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। অভিবাসন জালিয়াতিতে এটি একটি পরিচিত কৌশল হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছে।
অভিযানের সময় এক যাত্রীর সন্দেহজনক বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত জোরদার করলে অবৈধ অভিবাসন সহায়তাকারী একটি চক্রের তথ্য সামনে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় এক স্পেনের নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পিএসপি। পুলিশের অভিযোগ, তিনি ভুয়া স্প্যানিশ পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশিদের শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশে সহায়তা করছিলেন। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চারজন বিদেশি নাগরিকের পর্তুগালে প্রবেশ বাতিল করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে তিন বছরের জন্য শেনজেন অঞ্চলে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এছাড়াও আলাদা তল্লাশিতে আগে থেকেই শেনজেন অঞ্চলে নিষিদ্ধ থাকা পাঁচজন যাত্রীকে লিসবন বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনের আওতায় তাদের নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
এই অভিযানের অংশ হিসেবে ইতালির জারি করা ইউরোপীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে একজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মাদক পাচার সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি বর্তমানে লিসবনে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাকে ইতালিতে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পিএসপি।
উল্লেখ্য, পর্তুগালের সাবেক সীমান্ত সংস্থা-এসইএফ বিলুপ্ত হওয়ার পর থেকে দেশের সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করছে পিএসপি। এর আওতায় বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ যাচাই, নথিপত্র পরীক্ষা, আটক ও বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
পুলিশের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে পর্তুগালের বিমানবন্দর দিয়ে ২ কোটিরও বেশি যাত্রী চলাচল করেছে। একই সময়ে অবৈধ অভিবাসন, নথি জালিয়াতি ও মানবপাচার সংক্রান্ত অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সরকারের কঠোর অবস্থানের ফলে অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সাফল্য এলেও, অতিরিক্ত দায়িত্ব ও জনবল সংকট নিয়ে পিএসপির ভেতরে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পুলিশ ইউনিয়নগুলোর দাবি, বিমানবন্দরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ফলে অনেক স্থানীয় থানায় জনবল ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।
তারপরও পিএসপি জানিয়েছে, পর্তুগাল ও শেনজেন অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
