বুধবার, ১১ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬   |   ২৯ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রিসে কর্মরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের কষ্টার্জিত অর্থ দীর্ঘদিন ধরে আটকা পড়ে রয়েছে। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘এনবিএল মানি ট্রান্সফার এসএ’–এর মাধ্যমে প্রেরিত রেমিট্যান্স এখনো পরিবারের অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। খবর পাওয়া গেছে, অন্তত ৩ শতাধিক প্রবাসীর রেমিট্যান্স দেড় মাস ধরে আটকা রয়েছে, যা তাদের পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন মোহাম্মদ ইসলাম জানিয়েছেন, তার অসুস্থ স্ত্রী ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসার জন্য তিনি ২ হাজার ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লক্ষ টাকা) পাঠিয়েছিলেন, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তা পৌঁছায়নি। তিনি বলেন, বারবার প্রতিষ্ঠান গিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো সমাধান পাইনি।

অন্য প্রবাসীরা জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটিতে গত কয়েকদিন ধরে তালা ঝুলে থাকা এবং কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তাদের হতাশা আরও বেড়েছে। মাসের শেষে উপার্জিত অর্থ পরিবারের জন্য পাঠানো হলেও দেড় মাস ধরে আটকা থাকার কারণে দেশে থাকা স্বজনদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটির ইনচার্জ এস এম রনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অনুমতি না দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে জানান, গণমাধ্যমে কথা বলার অনুমতি নেই।

এ বিষয়ে গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা রহমান সুমনা বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

প্রবাসীরা আশঙ্কা করছেন, রেমিট্যান্স আটকা থাকার কারণে অনেকের পরিবারের জীবনযাত্রা, চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রভাবিত হচ্ছে। তারা আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে বিদেশে কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত তাদের অর্থ নিরাপদে দেশে পৌঁছাতে পারে এবং পরিবারের দৈনন্দিন জীবন স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে থাকা শ্রমিকদের অর্থ দেশে নিরাপদে পৌঁছানোর বিষয়টি প্রবাসী অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রবাসীরা প্রেরিত রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভর করে পরিবার পরিচালনা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ করেন। এই ধরনের আটকা পড়া বা কার্যক্রম ব্যাহত হলে শ্রমিকদের আস্থা কমে যায়, মানসিক চাপ বৃদ্ধি পায় এবং মানবিক সংকট তৈরি হয়।

এছাড়া, প্রবাসী অর্থপ্রেরণার প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়হীনতা, লিকুইডিটি সমস্যা ও স্থানীয় প্রশাসনিক বাধা প্রায়ই এ ধরনের সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version