স্পেনে অবৈধ অভিবাসী পাচারের অভিযোগে এক বাংলাদেশি চালককে গ্রেফতার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সীমান্ত এলাকায় একটি সন্দেহজনক যান তল্লাশি চালানোর সময় বিভিন্ন দেশের অবৈধ অভিবাসী বহনের প্রমাণ পাওয়ার পর তাকে আটক করা হয় বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি বাণিজ্যিক যান ব্যবহার করে অবৈধভাবে ইউরোপে প্রবেশ করা অভিবাসীদের এক দেশ থেকে অন্য দেশে পৌঁছে দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে স্পেনের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
পুলিশ জানায়, নিয়মিত সীমান্ত নজরদারির অংশ হিসেবে একটি চেকপোস্টে গাড়িটি থামানো হয়। তল্লাশির সময় যানটির ভেতরে কাগজপত্রহীন একাধিক অভিবাসী পাওয়া যায়, যাদের চলাচলের বৈধ নথি ছিল না। এরপর চালককে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়।
স্পেনের প্রচলিত আইনে অবৈধ অভিবাসী পরিবহন ও মানবপাচার একটি গুরুতর অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে জড়িত থাকলে, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, বড় অঙ্কের জরিমানা এবং স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বাতিলের বিধান রয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অভিযুক্ত বাংলাদেশি চালককে আদালতে হাজির করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার পরিচয় ও অন্যান্য বিস্তারিত প্রকাশ করেনি পুলিশ।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে মানবপাচারের ক্ষেত্রে স্পেন একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট। বিশেষ করে, উত্তর আফ্রিকা থেকে স্পেন, এরপর ফ্রান্স, ইতালি বা অন্য সেনজেন দেশে। এই রুটে বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের ব্যবহার করা হয় চালক বা লজিস্টিক সহায়তাকারী হিসেবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকও এই পাচার নেটওয়ার্কে জড়িয়ে পড়ছেন, যা প্রবাসী কমিউনিটির জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করছে।
স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা বলেছেন, এই ধরনের ঘটনা পুরো কমিউনিটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। বেশিরভাগ বাংলাদেশি বৈধভাবে পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তারা প্রবাসীদের আইন মেনে চলা এবং পাচারকারীদের প্রলোভনে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্পেন সরকার জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন ও মানবপাচার রোধে, সীমান্ত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্য ব্যবহার করা হচ্ছে ও আন্তঃদেশীয় নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে সহজ আয় বা দ্রুত বৈধতার প্রলোভন দেখিয়ে পাচারকারীরা অনেক সময় প্রবাসীদের অপরাধে জড়িয়ে ফেলে। একবার ধরা পড়লে তার আইনি পরিণতি শুধু ব্যক্তির নয়, পরিবার ও কমিউনিটির ওপরও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে।
