পবিত্র ইস্টার উৎসবের ছুটিকে কেন্দ্র করে স্পেনে যখন লক্ষ লক্ষ পর্যটকের সমাগম ঘটছে, ঠিক তখনই দেশটির প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে শুরু হয়েছে কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতির ফলে স্পেনের আকাশপথে যাতায়াতে চরম বিশৃঙ্খলা ও ফ্লাইট বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্পেনের প্রধান তিন শ্রমিক ইউনিয়ন (UGT, CCOO এবং USO) বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ও কাজের উন্নত পরিবেশের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রাউন্ডফোর্স কোম্পানির কর্মীরা এই ধর্মঘটে অংশ নেওয়ায় ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং, বোর্ডিং এবং গ্রাউন্ড সার্ভিসের মতো অপরিহার্য সেবাগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘট প্রতি সপ্তাহের সোমবার, বুধবার এবং শুক্রবার তিনটি নির্দিষ্ট সময়ে(স্থানীয়) চলবে: ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা, সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা এবং রাত ১০টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। এই ধর্মঘটের কবলে পড়েছে স্পেনের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলো, যার মধ্যে রয়েছে মাদ্রিদ-বারাজাস, বার্সেলোনা-এল প্রাট, মালাগা, পালমা ডি ম্যালোর্কা এবং ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের প্রধান বিমানবন্দরসমূহ। যদিও স্প্যানিশ আইন অনুযায়ী ‘ন্যূনতম পরিষেবা’ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে, তবুও যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফ্লাইট বিলম্বের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা এই সময়ে ভ্রমণকারীদের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁরা চেক-ইন এবং ব্যাগেজ ড্রপের জন্য স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা বলেছেন। এছাড়া সম্ভব হলে চেক-ইন ব্যাগেজের বদলে কেবল হ্যান্ড ল্যাগেজ বহন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাতে ব্যাগ হ্যান্ডলিংয়ের দীর্ঘসূত্রতা এড়ানো যায়। মনে রাখবেন, ধর্মঘটের কারণে ফ্লাইট বাতিল হলে যাত্রীরা রি-বুকিং অথবা পূর্ণ রিফান্ড পাওয়ার অধিকারী এবং প্রয়োজনে এয়ারলাইন্স খাবার ও আবাসন সরবরাহ করতে বাধ্য। ভ্রমণের আগে নিয়মিত এয়ারলাইন্স বা বিমানবন্দরের ওয়েবসাইট থেকে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
