মঙ্গলবার, ৩১শে মার্চ, ২০২৬   |   ১৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ব্রেক্সিটের পর থমকে যাওয়া সম্পর্ক পুনরায় চাঙ্গা করতে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এক ঐতিহাসিক ‘যুব অভিজ্ঞতা প্রকল্প’ বা ইয়ুথ মোবিলিটি স্কিম নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তবে এই প্রকল্পের আওতায় অভিবাসীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে একটি “জরুরি ব্রেক” ব্যবস্থার প্রস্তাব দিয়েছে ইইউ। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার গত মে মাসে এই স্কিম চালুর বিষয়ে সম্মত হলেও, অভিবাসনের সংখ্যা এবং নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও দরকষাকষি চলছে।

বেন কুইনের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য সরকার এই প্রকল্পের আওতায় আগতদের সংখ্যার ওপর সরাসরি একটি ‘ক্যাপ’ বা নির্দিষ্ট সীমা বসাতে চায়। তবে ইইউ সরাসরি সংখ্যা নির্ধারণে আপত্তি জানিয়ে একটি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার কথা বলেছে, যেখানে প্রয়োজন হলে ‘জরুরি ব্রেক’ প্রয়োগ করে প্রবেশাধিকার সীমিত করা যাবে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য কেবল অভিবাসন নয়, বরং দুই মহাদেশের তরুণদের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং কর্মসংস্থানের সেতুবন্ধন তৈরি করা। ২০২৬ সালের মধ্যে এই চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ১০ ডাউনিং স্ট্রিট।

এদিকে, আগামী ১২ জুন থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন অভিবাসন চুক্তির মাধ্যমে ইইউ সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনা করছে, যার প্রভাব ইংলিশ চ্যানেল পারাপারের ওপরও পড়তে পারে। বিশেষ করে ক্যালাইস এ কাউকে পাওয়া গেলে তাঁকে যে দেশ দিয়ে প্রবেশ করেছেন সেখানে ফেরত পাঠানোর মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। আসন্ন জুলাইয়ের শীর্ষ সম্মেলনে এই ইয়ুথ স্কিমের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বের সাথে আলোচিত হবে। লেবার মুভমেন্ট ফর ইউরোপের চেয়ার স্টেলা ক্রিসি এই উদ্যোগকে ব্রেক্সিটের পর হারানো সুযোগ ফিরিয়ে আনার একটি বড় মাধ্যম হিসেবে দেখছেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version