মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে গত সপ্তাহের রুদ্ধদ্বার ফোনালাপে ঠিক কী কথা হয়েছিল, তা প্রকাশ করে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। গত শুক্রবার ফ্রাঙ্কফুর্টে এক অনুষ্ঠানে মের্ৎস ফাঁস করেছেন যে, ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর সেই আলাপ মোটেও ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ ছিল না। ফোনালাপে ট্রাম্প একাধিকবার দম্ভোক্তি করে বলেছেন যে, তাঁর ‘ন্যাটোর কোনো প্রয়োজন নেই’। ট্রাম্পের এমন একতরফা এবং অযাচিত আচরণের তীব্র সমালোচনা করে জার্মান চ্যান্সেলর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জার্মানির প্রতি এই ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং ভবিষ্যতেও তা মেনে নেওয়া হবে না।
ইরান সংকটের প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির কড়া সমালোচনা করে মের্ৎস বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যা করছেন তা শান্তি স্থাপন নয়, বরং উত্তেজনাকে এক ভয়াবহ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যার ফলাফল অনিশ্চিত। তিনি আরও জানান, ট্রাম্প যুদ্ধ শুরু করার পর সংবাদপত্রের মাধ্যমে জার্মানির সাহায্য চেয়েছেন—যা অত্যন্ত অপেশাদার একটি রীতি। চ্যান্সেলর মের্ৎস ট্রাম্পকে মুখের ওপর বলে দিয়েছেন, “আপনি যদি আমাদের সাহায্য চান, তবে তা আগে আমাদের জিজ্ঞেস করুন।” বিশেষ করে ইরানে সরকার পরিবর্তনের যে চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল করছে, তা সফল হওয়ার বিষয়ে গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি।
এদিকে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে চলমান এই যুদ্ধের কারণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে বিশ্ববাজারের এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা একে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জ্বালানি বিপর্যয় হিসেবে অভিহিত করেছে। ট্রাম্প ইতিপূর্বে জার্মানির বিরুদ্ধে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তায় সাহায্য না করার অভিযোগ তুললেও, মের্ৎস জানিয়েছেন যে যুদ্ধ শেষ হলে জার্মানি মাইন অপসারণের মতো মিশনে সহায়তা করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ার এই ইরান যুদ্ধকে সরাসরি ‘আন্তর্জাতিক আইনবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা বার্লিন ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার কূটনৈতিক ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে তুলল।
