বুধবার, ১৮ই মার্চ, ২০২৬   |   ৫ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও মর্যাদাপূর্ণ রান্নার লড়াই ‘মাস্টারশেফ প্রফেশনালস ইউকে’ এর মঞ্চে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের তরুণ শেফ ইসমাইল হোসেন। বিদেশের মাটিতে নিজের রন্ধনশৈলী ও সৃজনশীলতার জাদুতে বিচারকদের মুগ্ধ করে তিনি প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। রাজশাহীর এই তরুণের হাত ধরে ব্রিটিশদের সামনে নতুনভাবে উন্মোচিত হয়েছে বাংলার ঐতিহ্যবাহী স্বাদ ও রন্ধন সংস্কৃতি।

যুক্তরাজ্যের এই জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো-তে শুরু থেকেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে আসছিলেন ইসমাইল। সম্প্রতি প্রচারিত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বে তিনি পরিবেশন করেন বাংলাদেশের চিরচেনা দুই পদ— ‘হালিম’ এবং ‘বিফ রেজালা’। পশ্চিমা বিশ্বের অভিজ্ঞ শেফদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশি মশলার নিখুঁত ভারসাম্য ও আধুনিক উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি সরাসরি সেমিফাইনালে উত্তীর্ণ হন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের রন্ধনশৈলীকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়াই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য।

ইসমাইলের এই যাত্রাপথ ছিল কঠোর সাধনার। রাজশাহীর এক সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা এই তরুণ ছোটবেলা থেকেই রান্নার প্রতি এক ধরনের টান অনুভব করতেন। সেই স্বপ্নকে সঙ্গী করেই তিনি পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে এবং ধীরে ধীরে পেশাদার শেফ হিসেবে নিজেকে তৈরি করেন। প্রতিযোগিতার বিচারকরা তাঁর রান্নার কৌশল এবং দেশি খাবারের স্বকীয়তা বজায় রেখে বিশ্বমানের পরিবেশনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান –  রান্নার হাতেখড়ি তাঁর মায়ের কাছ থেকেই। বাংলাদেশে ছোটবেলায় মায়ের সাথে রান্নাঘরে সাহায্য করতে গিয়েই খাবারের প্রতি ভালোবাসার জন্ম। পরে লন্ডনের হেড শেফ জেমস নাইটের কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি শেখেন কীভাবে সাধারণ উপকরণকে শৈল্পিক রূপ দেওয়া যায়। ইসমাইলের রান্নার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো ‘লেস ইজ মোর’ অর্থাৎ উপকরণের আধিক্যের চেয়ে স্বাদের স্বচ্ছতার ওপর তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে ‘স্লো কুকিং’ এবং ‘ওপেন-ফায়ার কুকিং’-এর প্রতি তাঁর বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে।

বর্তমানে স্ত্রী সারা ও কন্যাকে নিয়ে পশ্চিম লন্ডনে থাকেন তিনি। ইসমাইলের কাছে রান্না কেবল পেশা নয়, বরং বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রম, শেখার অদম্য ক্ষুধা এবং নিজেকে উচ্চতর পর্যায়ে প্রমাণ করার তাগিদ থেকেই তিনি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে ইসমাইলের সাফল্য বাংলাদেশের খাবারের এক অনানুষ্ঠানিক দূত হিসেবে তাঁকে পরিচিত করে তুলেছে। দেশি খাবার যে আন্তর্জাতিক মঞ্চেও সমানভাবে সমাদৃত হতে পারে, ইসমাইল হোসেন তা প্রমাণ করে দিয়েছেন। এখন সবার অপেক্ষা তাঁর চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছানোর এবং বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের নাম আরও উজ্জ্বল করার।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version