মঙ্গলবার, ২৪ই মার্চ, ২০২৬   |   ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হংকং থেকে লন্ডনগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ‘বিএ-৩২’ ফ্লাইটে উড্ডয়নের মাত্র এক ঘণ্টা পরেই ৬০ বছর বয়সী এক নারী যাত্রীর আকস্মিক মৃত্যু হয়। তবে মৃত্যুর পর বিমানটি হংকংয়ে ফিরে না গিয়ে মরদেহসহ বাকি সাড়ে ১২ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন পাইলটরা।

এয়ারবাস এ৩৫০-১০০০ মডেলের ওই বিমানের ৩৩১ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের উপস্থিতিতে মরদেহটি বিমানের পেছনের অংশ অর্থাৎ ‘রিয়ার গ্যালি’ বা রান্নাঘরের মেঝেতে রাখা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, বিমানে যাত্রীর মৃত্যুকে সাধারণত ‘মেডিকেল এমার্জেন্সি’ বা জরুরি চিকিৎসা অবস্থা হিসেবে গণ্য করা হয় না, যার ফলে পাইলটরা পূর্বনির্ধারিত গন্তব্যের দিকেই যাত্রা অব্যাহত রাখেন। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, গ্যালির মেঝের অতিরিক্ত তাপের কারণে মরদেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, যা ফ্লাইটের শেষ দিকে কেবিনের পেছনের অংশে থাকা যাত্রীদের জন্য চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

লন্ডনে অবতরণের পর স্থানীয় পুলিশ বিমানে প্রবেশ করে এবং তদন্তের স্বার্থে প্রায় ৪৫ মিনিট যাত্রীদের নিজ নিজ আসনে বসে থাকার নির্দেশ দেয়। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সমস্ত আন্তর্জাতিক নিয়ম ও নিরাপত্তা পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল। সাধারণত মাঝ আকাশে মৃত্যুর ক্ষেত্রে মরদেহ বডি ব্যাগে রাখা বা খালি আসনে সরিয়ে নেওয়ার নিয়ম থাকলেও, ফ্লাইটটি পূর্ণ থাকায় মরদেহটি আড়ালে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিমানে চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থার মাত্র ০.৩ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যুর মতো ঘটনা ঘটে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় নিহতের পরিবার ও ক্রু সদস্যদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং বিমানের ভেতরে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version