বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ব্রিটিশ হোম অফিসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকার শীর্ষ পাঁচটি দেশের মধ্যে আবারও উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে এই প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সমাপ্ত হওয়া এক বছরে যুক্তরাজ্যে মোট ১ লাখ ১০ হাজার ৫১ জন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। এটি গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। আবেদনকারীদের সংখ্যার ভিত্তিতে শীর্ষ পাঁচটি দেশ হলো, পাকিস্তান (১১শতাংশ), ইরিত্রিয়া (৮শতাংশ), ইরান (৭ শতাংশ), আফগানিস্তান (৭শতাংশ) ও বাংলাদেশ (৬শতাংশ)।

প্রতিবেদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, ৪১ হাজার ৫০০ জন আবেদনকারী (মোট আবেদনের প্রায় ৪০শতাংশ) ইতিমধ্যে বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তারা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পেতে স্টুডেন্ট বা ওয়ার্ক ভিসা থেকে আশ্রয়ের আবেদনের পথ বেছে নিয়েছেন, এর মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসা থেকে আসা ১৪ হাজার ২৪৩ জন এবং ওয়ার্ক ভিসাধারী ১৩ হাজার ৪২৭ জন। যাকে বিশেষজ্ঞরা ‘ভিসা সুইচিং’ বলছেন। আগে যেখানে প্রতি তিন মাসে (কোয়ার্টার) এক হাজারের কম আবেদন জমা পড়ত, এখন তা চার হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ও অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং পরবর্তী সময়ে উদ্ভূত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাই এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ। অনেক আবেদনকারী দেশে আইনি জটিলতা, নিরাপত্তা ঝুঁকি বা ব্যক্তিগত মামলার ভয় থেকে আশ্রয়ের আবেদন করছেন। এছাড়াও অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে অনেকে একে স্থায়ী হওয়ার সহজ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কনজারভেটিভ পার্টির শ্যাডো হোম সেক্রেটারি ক্রিস ফিলপ একে ‘পদ্ধতিগত অপব্যবহার’ ও ‘শিল্প পর্যায়ের জালিয়াতি’ হিসেবে অভিহিত করে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ হোম অফিস জানিয়েছে, ঝুলে থাকা আবেদনের জট গত বছরের তুলনায় প্রায় ৫৪ শতাংশ কমানো হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৬২ হাজার ২০০ আবেদন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে। উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর ভিজিট ভিসায় কড়াকড়ি করার ফলে কিছু দেশের ক্ষেত্রে আবেদন ৯৩ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে। সরকার বর্তমানে ‘বর্ডার সিকিউরিটি এন্ড অ্যাসাইলাম বিল’ পাসের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, যা অবৈধ উপায়ে আশ্রয়ের পথ বন্ধ করতে আরও সহায়ক হবে।

চ্যান্সারি সলিসিটরসের কর্ণধার ব্যারিস্টার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ভুল তথ্যের ভিত্তিতে করা কিছু ভুয়া আবেদনের কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত বিপদগ্রস্ত ও যোগ্য আবেদনকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version