মঙ্গলবার, ২৮ই এপ্রিল, ২০২৬   |   ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিতে থাকা শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস ২০২৬’ শীর্ষক এক বার্ষিক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার যৌথ উদ্যোগে তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটে থাকা মানুষের দুই-তৃতীয়াংশই মাত্র ১০টি দেশের বাসিন্দা, যার মধ্যে বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত। তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশগুলো হলো—আফগানিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো), মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া এবং ইয়েমেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০১৬ সালের তুলনায় বর্তমানে বৈশ্বিক খাদ্য সংকট প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছর ৪৭টি দেশ বা অঞ্চলের প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ উচ্চ মাত্রার তীব্র খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন। যদিও বাংলাদেশ ও সিরিয়ার মতো কিছু দেশে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবে আফগানিস্তান ও মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি সামগ্রিক বৈশ্বিক উন্নতিকে থমকে দিয়েছে। সংঘাত, যুদ্ধ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাবকে এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালী বাধাগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার উৎপাদন ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে, যা সরাসরি কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করছে।

আগামী বছরের পূর্বাভাস দিতে গিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সাল খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ হতে পারে। আন্তর্জাতিক ত্রাণের পরিমাণ কমে যাওয়া এবং প্রতিকূল আবহাওয়া এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের প্রধান আলভারো লারিও সতর্ক করে বলেছেন, সার ও জ্বালানির উচ্চমূল্য চলতি চাষ মৌসুমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি ক্ষুদ্র কৃষকদের জলবায়ু-সহনশীল ফসল চাষে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশের জন্য এই প্রতিবেদনটি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে একটি বড় সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন 

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version