বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে ইতিহাস রচনা করলেন জোহরান মামদানি। প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং প্রথম আফ্রিকায় জন্ম নেওয়া নাগরিক হিসেবে তিনি এবার মেয়রের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৯০ শতাংশ ভোট গণনা শেষে মামদানি সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুওমোর চেয়ে ৯ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট এই প্রার্থী ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭১টি ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করেছেন, যা কুওমোর ভোটের চেয়ে প্রায় দুই লাখ বেশি।

৩৪ বছর বয়সী স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য মামদানি সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন…

আজ রাতে আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। ভবিষ্যৎ এখন আমাদের হাতে। বন্ধুরা, আমরা একটি রাজনৈতিক রাজবংশকে পরাজিত করেছি।

তিনি আরও যোগ করেন…

নিউইয়র্কবাসী, তোমরা পরিবর্তনের জন্য, এক নতুন ধরনের রাজনীতির জন্য, আমাদের নাগালের মধ্যে থাকা একটি শহরের জন্য জনাদেশ দিয়েছ।

এই নির্বাচনকে অনেকেই ডেমোক্র্যাটিক দলের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত হিসেবে দেখছেন। যেখানে অ্যান্ড্রু কুওমো ধনী দাতাদের প্রভাবিত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, সেখানে স্বঘোষিত ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট জোহরান মামদানি দলের জন্য নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মামদানি তার নির্বাচনী প্রচারণায় মূলত সাশ্রয়ী শহর গঠনের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। তিনি ইয়েমেনি মুদি দোকানের মালিক, মেক্সিকান দাদী-নানী, সেনেগালিজ ট্যাক্সি চালক থেকে শুরু করে উজবেক নার্স, ত্রিনিদাদীয় রেস্তোরাঁর কর্মী এবং ইথিওপীয়ান খালাদের কথা উল্লেখ করে একটি বৈচিত্র্যময় সমর্থক জোট গড়ে তুলেছেন।

তাঁর প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে বিনামূল্যে পাবলিক বাস, সার্বজনীন শিশুযত্ন এবং স্থিতিশীল ভাড়া নিয়ন্ত্রণ। তবে এই প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন করতে হলে কর্পোরেশন এবং ধনী বাসিন্দাদের উপর কর বৃদ্ধি করে রাজ্য আইনসভায় সমর্থন জোগাড় করতে হবে।

মামদানি ফিলিস্তিনি অধিকারের প্রতি তার দৃঢ় সমর্থনের জন্যও পরিচিত, যা মূলধারার ডেমোক্র্যাটিক এবং নিউইয়র্ক সিটির প্রাক্তন মেয়রদের থেকে তাকে আলাদা করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে কুওমোকে সমর্থন দিলেও তা কাজে আসে নি। বরং অনেক রিপাবলিকান ভোটারও মামদানিকে ভোট দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিউইয়র্ক সিটির ৮৪ লাখেরও বেশি বাসিন্দার এই শহরটি আন্তর্জাতিকভাবে একটি অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জোহরান মামদানির এই বিজয় শহরে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version