বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন সামাজিক মাধ্যম এক্স (পূর্বে টুইটার)–কে ১২ কোটি ইউরো বা এক হাজার সাতশো নয় কোটি চার লাখ টাকা জরিমানা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, প্ল্যাটফর্মটি ইউরোপের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ)–এর স্বচ্ছতার নীতিমালা ভঙ্গ করেছে। এই জরিমানার সিদ্ধান্তের পরই এক্স(X )–এর মালিক মার্কিন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিলুপ্ত হওয়া উচিত।

জরিমানার কারণ

ব্লু চেকমার্ক (Blue checkmark) এখন টাকা দিয়ে কেনা যায়, কিন্তু ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই করা হয় না। ইইউ কমিশন জানিয়েছে, এটি ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করে, ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট বাড়ায়, প্রতারণা সহজ করে এবং অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে। এক্স (X) তাদের বিজ্ঞাপন রেকর্ড স্বচ্ছভাবে সংরক্ষণ ও প্রকাশ করছে না। ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট-ডিএসএ অনুযায়ী গবেষকদের জন্য পাবলিক ডেটা অ্যাক্সেস (Public data access) বাধ্যতামূলক, কিন্তু এক্স (X) তা মানেনি।

মাস্কের প্রতিক্রিয়া

জরিমানা ঘোষণার পর মাস্ক লিখেছেন…

ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বিলুপ্ত করে ক্ষমতা সদস্য দেশগুলোর হাতে ফিরিয়ে দেওয়া উচিত, যাতে তারা জনগণকে আরও ভালোভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

আরেকটি মন্তব্যে মাস্ক বলেছেন…

আমি সিরিয়াস, মজা করছি না।

এছাড়া তিনি আরও বলেছেন…

আমি ইউরোপকে ভালোবাসি, কিন্তু ইউরোপীয় ইউনিয়ন যে আমলাতান্ত্রিক দানব, তাকে নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিরাও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন শুধু এক্স (X) নয়, বরং সব আমেরিকান প্রযুক্তি কোম্পানিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। মাস্কও এই মন্তব্য রিপোস্ট করে লিখেছেন, তিনি এব্যাপারে সম্পূর্ণ একমত।

ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট-ডিএসএ

২০২৩ সালে চালু হওয়া ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট-ডিএসএ’র লক্ষ্য, ভুয়া খবর কমানো, ভেরিফিকেশন স্বচ্ছ করা, প্ল্যাটফর্মগুলোর উপর সামাজিক দায়বদ্ধতা আরোপ এবং গবেষকদের ডেটা অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা। তবে এক্স (X)–ই প্রথম বড় প্ল্যাটফর্ম, যাকে এই আইনের অধীনে বড় জরিমানা করা হলো।

সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি নতুন ডিজিটাল শীতলযুদ্ধ। এর ফলে ইউরোপ–আমেরিকার প্রযুক্তি সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হতে পারে। মেটা (Meta), টিকটক (TikTok), ইউটিউব (YouTube)-সবাই ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট-ডিএসএ নিয়ে আরও সতর্ক হতে বাধ্য হবে। এছাড়া “ব্লু চেক” আর পরিচয়ের নিশ্চয়তা নয়, এটি দুনিয়া জুড়ে মানুষের ধারণা নড়িয়ে দিচ্ছে।

ইইউর নতুন ডিজিটাল আইন টেক কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চায়, কিন্তু ইলন মাস্ক–এর মতো উদ্যোক্তারা এটিকে “রাজনৈতিক চাপ” হিসেবে দেখছেন। ইউরোপ চায় অনিয়ন্ত্রিত সোশ্যাল মিডিয়ার ঝুঁকি কমাতে, আর যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, ইউরোপ আসলে আমেরিকান টেক আধিপত্যকে সংকুচিত করতে চাইছে। ফলে এক্স (X)–কে দেয়া জরিমানা শুধু একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, এটি রাজনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষমতার বড় সংঘর্ষের সূচনা।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version