বৃহস্পতিবার, ১৫ই জানুয়ারি, ২০২৬   |   ২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রীক সাইপ্রাসের ঐতিহ্যবাহী শহর লার্নাকায় জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে রেডিসন ব্লু লার্নাকা ইন্টারন্যাশনাল ম্যারাথন। বিশ্বের ৮৫টি দেশ থেকে আসা প্রায় ১২ হাজার দৌড়বিদ অংশ নেন এ বহুল আলোচিত আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়। বহুজাতিক এই দৌড় উৎসবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করে বাংলাদেশকে গৌরবান্বিত করেছেন নোয়াখালীর তরুণ ক্রীড়াবিদ ও ফুটবল ফ্রিস্টাইলার কনক কর্মকার।

এটি ছিল কনক কর্মকারের প্রথম বিদেশের মাটিতে আন্তর্জাতিক ম্যারাথন। সফলভাবে রেস সম্পন্ন করে তিনি প্রমাণ করেছেন তার শারীরিক সক্ষমতা, অধ্যবসায় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতির মান।

বর্তমানে কনক কর্মকার ফিলিপ্স ইউনিভার্সিটি সাইপ্রাস (Phillips University Cyprus)-এ উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত নিজেকে প্রস্তুত করে যাচ্ছেন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য।

ফুটবল ফ্রিস্টাইল ও ব্যালান্সিং ক্যাটাগরিতে কনক কর্মকারের রয়েছে ২৭টি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড, যা বাংলাদেশের যেকোনো ব্যক্তির মধ্যে সর্বোচ্চ। ফ্রিস্টাইল ফুটবলে তার বৈশ্বিক পরিচিতি ইতোমধ্যে তাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে। তাই ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় তার অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরেছে।

কনক কর্মকারের অবদান শুধু রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ নয়, তার সাফল্য দেশের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। গত বছর তিনি ভারতের রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে বিশেষ স্বীকৃতি লাভ করেন, যা বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া যুব প্রতিনিধিদলের প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে প্রদান করা হয়। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও তাকে ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য সংবর্ধনা দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও তিনি সম্মাননা অর্জন করেছেন।

বিদেশের মাটিতে ম্যারাথন সম্পন্ন করা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে নতুনভাবে তুলে ধরার সুযোগ। কনক কর্মকারের মতো বহুমুখী প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদ দেশের তরুণ প্রজন্মকে নিয়মিত খেলাধুলায়, ফিটনেসে ও বৈশ্বিক অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করছে ।

ম্যারাথনে সফল অংশগ্রহণের পর কনক কর্মকার জানিয়েছেন যে, তিনি নিয়মিত আন্তর্জাতিক দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চান এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বড় কোনো অ্যাথলেটিক প্রতিযোগিতায় প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখেন।

ক্রীড়াপ্রেমীরা বিশ্বাস করেন, তার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ও সাফল্য একদিন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করবে।

শেয়ার
মতামত দিন...

Exit mobile version