বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য পোস্টাল ভোটের (ডাক ভোট) সুযোগ চালু হচ্ছে। বুধবার (২০ নভেম্বর) থেকে শুরু হচ্ছে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন। চলবে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। তিনটি ভৌগোলিক ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলাদেশিদের নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার-সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন অ্যাপটির উদ্বোধন করেন।
প্রথমবার পোস্টাল ভোট: যেভাবে ভোট দেবেন প্রবাসীরা
ইসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রবাসীরা প্রথমে অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করবেন। মনোনয়ন বাছাই ও প্রত্যাহারের পর অ্যাপে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা (প্রতীকসহ) দেখা যাবে। ব্যালট পেপারে থাকবে ১১৯টি প্রতীক, ভোটার সেখানে টিক বা ক্রস দিয়ে ভোট দেবেন। যেখানে একজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবেন, সেসব আসনের ভোটাররা ‘না ভোট’ দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ব্যালট পেপারের সঙ্গে থাকবে একটি ঘোষণাপত্র, যেখানে ভোটারকে নিজের ভোট দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্বাক্ষর করতে হবে। ভোট দেওয়া ব্যালট ও স্বাক্ষরিত ঘোষণাপত্র রিটার্ন খামে ভরে নিকটস্থ পোস্ট অফিসে জমা দিলেই হবে। ডাকমাশুল আগেই পরিশোধিত। তবে ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর না থাকলে সেই ভোট বাতিল হিসেবে গণ্য হবে।
কোন দেশ থেকে, কবে নিবন্ধন করা যাবে
নির্বাচন কমিশন অঞ্চলভেদে আলাদা সময় নির্ধারণ করেছে- পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকা যেমন- জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা, কেনিয়াসহ প্রভৃতি দেশের (মোট ৫২টি দেশ) জন্য নির্ধারিত সময় ২০–২৩ নভেম্বর।
উত্তর আমেরিকার ১৪টি দেশ এবং ওশানিয়ার (অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড) ২টি দেশের জন্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪–২৮ নভেম্বর।
ইউরোপের মোট ৪২টি দেশ যেমন- যুক্তরাজ্য, ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডসসহ অন্যান্য দেশের জন্য নির্ধারিত সময় ২৯ নভেম্বর–৩ ডিসেম্বর।
মধ্যপ্রাচ্য শুরু হচ্ছে সৌদি আরব দিয়ে। ধাপে ধাপে অন্তর্ভুক্ত হবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েতসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ। মধ্যপ্রাচ্যর এসব দেশগুলোর জন্য ৪–৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ।
অতিরিক্ত সচিব ও প্রবাসী ভোটার প্রকল্পের পরিচালক কে এম আলী নেওয়াজ জানান, প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার পর অ্যাপে নিজের আসনের প্রার্থী ও প্রতীক দেখা যাবে। প্রতিটি ভোটার নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র তথ্য ও পাসপোর্টের ভিত্তিতে যাচাই সম্পন্ন করবেন। একই অ্যাপে ভোটার দেখতে পারবেন তার ব্যালট কবে পাঠানো হলো এবং ডাক বিভাগে পৌঁছেছে কি না।
প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বলেন, ভোটার পছন্দের প্রতীকে টিক দেওয়ার পর ব্যালট রিটার্ন খামে ভরে পোস্ট অফিসে দিলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশে পৌঁছে যাবে। ডাক খরচ আগেই দেওয়া থাকবে।
এবার পোস্টাল ভোটের আওতায় আসছেন আরও তিন শ্রেণির মানুষ
ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবীরা, দেশের ৭১টি কারাগারের বন্দি ও কয়েদিরা এবং নির্বাচনী কাজে বাইরে থাকা সুরক্ষাবাহিনীর সদস্যরা। এদের জন্যও আলাদা নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করবে ইসি।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রায় এক কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির মধ্যে অনেকেই ইভিএম বা সরাসরি ভোটের বাইরে থাকেন। এ উদ্যোগ তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করবে এবং নির্বাচনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্র আরও জোরদার করবে। তারা আরও জানান, ভবিষ্যতে অনলাইনে ভোট পর্যবেক্ষণের মতো সুবিধাও যুক্ত করা হতে পারে।
প্রবাসীদের ভোট অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রথমবার নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন ঘটছে। নির্ধারিত তারিখে নিবন্ধন এবং ঘোষণাপত্রসহ ব্যালট পাঠানো, এ দুটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারলেই প্রবাসীরা তাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
