ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত সমালোচনার মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ব্রিটেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার গত রবিবার স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন যে, ব্রিটেন তার পররাষ্ট্রনীতি অন্য কোনো দেশের কাছে ‘আউটসোর্স’ বা ইজারা দেবে না।
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের অবস্থান নিয়ে সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে কুপার এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া ব্রিটিশ সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার সম্প্রতি এক সভায় মন্তব্য করেছিলেন যে, “শুরু থেকেই আমেরিকার পাশে থাকা উচিত ছিল ব্রিটিশ সরকারের।” তার এই বক্তব্যের সরাসরি বিরোধিতা করে ইভেট কুপার বিবিসি ও স্কাই নিউজকে বলেন, “রাজনীতিতে কেউ কেউ মনে করেন আমাদের সবসময় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একমত হতে হবে। আবার এমন কিছু মানুষ আছেন যারা মনে করেন পরিস্থিতি যাই হোক না কেন আমাদের আর কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো পদক্ষেপে যাওয়া উচিত নয়। আমি মনে করি না এটি যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বার্থের অনুকূল।” তিনি আরও যোগ করেন, “ইরাকে যা ভুল হয়েছিল তা থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে এবং কিয়ার স্টারমার ঠিক সেটিই করছেন।”
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, “আমরা যুদ্ধ জিতে যাওয়ার পর যারা যোগ দেয়, তাদের আমাদের প্রয়োজন নেই!” এর জবাবে কুপার সাফ জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ দেখার দায়িত্ব তাদের প্রেসিডেন্টের, কিন্তু ব্রিটেনের স্বার্থ রক্ষার সিদ্ধান্ত ব্রিটেনকেই নিতে হবে।
উল্লেখ্য, ব্রিটেন রক্ষণাত্মক কাজের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিলেও ইরানের ওপর সরাসরি কোনো আক্রমণে এখন পর্যন্ত অংশ নেয়নি। লন্ডনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আলী মুসাভিও ব্রিটেনকে সতর্ক করে বলেছেন, সরাসরি কোনো আক্রমণে যুক্ত হলে ইরানের ‘আত্মরক্ষার অধিকার’ থাকবে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, ব্রিটেন ইরাক যুদ্ধ থেকে সঠিক শিক্ষা গ্রহণ করেছে।


