আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে শিরোপার জন্য লড়াই করার মতো সব ধরনের সামর্থ্য ও যোগ্যতা পর্তুগাল দলের রয়েছে বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন দলটির সাবেক সহকারী কোচ লিওনেল পন্তেস। পর্তুগালের লিজেন্ডারি ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর স্পোর্টিং একাডেমির সাবেক এই প্রশিক্ষক জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান পর্তুগাল দলটিতে রয়েছে একঝাঁক অভিজ্ঞ ও পরিপক্ক খেলোয়াড়, যারা ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বড় বড় আসরে শিরোপার জন্য লড়াই করতে অভ্যস্ত। সম্প্রতি লুসা সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, যদিও বিশ্বমঞ্চে এই প্রতিযোগিতা জেতার ক্ষেত্রে পর্তুগাল জাতীয় দলটি মূল ফেভারিটদের তালিকায় একদম প্রথম সারিতে নেই, তবুও একটি দুর্দান্ত ও স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার মতো অন্যতম প্রধান দাবিদার তারা। পন্তেসের মতে, বিশ্ব ফুটবলের গত দুই দশকে পর্তুগাল আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলোতে নিজেদের যে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে, তার ফলে প্রতিপক্ষ দলগুলো এখন পর্তুগালকে এবং তাদের খেলোয়াড়দের মানকে যথেষ্ট সম্মান ও সমীহ করে।
পর্তুগালের যুব জাতীয় দলের সাবেক এই টেকনিক্যাল স্টাফ এবং পাওলো বেন্তোর সহকারী হিসেবে ২০১২ ও ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ এবং ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে কাজ করা এই অভিজ্ঞ কোচ পর্তুগালের ফুটবলের ধারাবাহিক সাফল্যের নেপথ্য কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। বর্তমানে চীনা ক্লাব ‘সাংহাই শেনহুয়া’-র টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের দায়িত্বে থাকা পন্তেস বলেন, পর্তুগিজ ফুটবলের এই অভাবনীয় অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি হলো তাদের শক্তিশালী যুব উন্নয়ন ব্যবস্থা। দেশটিতে অত্যন্ত দক্ষ প্রশিক্ষক, আধুনিক ফুটবল জ্ঞান এবং উন্নত প্রশিক্ষণ পদ্ধতি থাকার কারণেই প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে একের পর এক বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে। একই সাথে তিনি দলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর উপস্থিতির কথা বিশেষভাবে তুলে ধরেন, যিনি আরও একটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দেশের হয়ে মাঠ কাঁপানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। রোনালদোর এই দীর্ঘস্থায়ীত্ব ও ফুটবল প্রতিভাকে তিনি পর্তুগাল দলের জন্য একটি বিশাল অনুপ্রেরণা ও শক্তির উৎস হিসেবে অভিহিত করেন।
তবে দলের শক্তির ওপর আস্থা রাখার পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপের ভৌগোলিক ও লজিস্টিক প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন লিওনেল পন্তেস। তিনি উল্লেখ করেন যে, এবারের বিশ্বকাপটি অত্যন্ত বিশেষ ও ভিন্নধর্মী হতে চলেছে, যেখানে দীর্ঘ পথ ভ্রমণ, দেশগুলোর জলবায়ুগত বিশাল পার্থক্য এবং ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপট দলের জন্য বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। নিজের পূর্ববর্তী টুর্নামেন্টগুলোর অভিজ্ঞতার আলোয় তিনি বলেন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে হলে কেবল মাঠের খেলা নয়, বরং মাঠের ভেতরের ও বাইরের লজিস্টিক ব্যবস্থাপনা, খেলোয়াড়দের শারীরিক পুনরুদ্ধার (রিকভারি) এবং দলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। দলের বাইরের যেকোনো ধরনের কোলাহল বা বিশৃঙ্খলা মাঠের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সমস্ত বাধা পেরিয়ে বিশ্ব শিরোপার অন্যতম দাবিদার হওয়ার এবং ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখার পূর্ণ সামর্থ্য রয়েছে পর্তুগালের।
তথ্যসূত্র: সিস নোটিসিয়াস


