মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার প্রেক্ষাপটে একাট্টা হয়েছে ইউরোপের পাঁচ শক্তিশালী দেশ। জার্মানি, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল এবং অস্ট্রিয়ার অর্থমন্ত্রীরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে দাবি জানিয়েছেন, তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলোর ‘অপ্রত্যাশিত অতিরিক্ত মুনাফা’র ওপর বিশেষ কর আরোপ করতে হবে।
ইইউ জলবায়ু কমিশনার ওপকে হোকস্ট্রাকে লেখা এক চিঠিতে মন্ত্রীরা সাফ জানিয়েছেন, যুদ্ধের সুযোগ নিয়ে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো যে পাহাড়সম মুনাফা করছে, সেই টাকা দিয়েই সাধারণ ভোক্তা ও করদাতাদের ভর্তুকি দিতে হবে।
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের পর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলার থেকে লাফিয়ে ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ সংকটে ধুঁকছে ইউরোপের অর্থনীতি। জার্মানি ও ইতালির মতো দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তারা ২০২২ সালের ‘সংহতি অবদান’ মডেলটি পুনরায় চালু করার জোর দাবি তুলেছে। গতবার এই পদ্ধতিতে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ইউরো কর আদায় করা হয়েছিল। এবার মন্ত্রীরা চাইছেন আরও কঠোর আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বহুজাতিক সংস্থাগুলোর বিদেশের মুনাফার ওপরও কর বসাতে।
ট্রিওডোস ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ হান্স স্টেগেমেন এই পদক্ষেপকে ‘অত্যন্ত সহজবোধ্য ও ন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছেন, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর মুদ্রাস্ফীতির বোঝা না চাপে।


