ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর মধ্যে আবাসন বা বাড়ির দাম বাড়ার দৌড়ে বর্তমানে শীর্ষ সারিতে উঠে এসেছে পর্তুগাল। ৭ই এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত ইউরোস্ট্যাট এর সাম্প্রতিক তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় পর্তুগালে বাড়ির দাম বেড়েছে ১৮.৯ শতাংশ। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেশটির সাধারণ নাগরিকদের জন্য আবাসন সুবিধা প্রাপ্তিকে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে এবং হাঙ্গেরির পরেই পর্তুগাল এখন ইউরোপের সবথেকে ব্যয়বহুল আবাসন বাজারের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে আবাসন মূল্যে সবচেয়ে বেশি বার্ষিক বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে হাঙ্গেরিতে, যেখানে বৃদ্ধির হার ছিল ২১.২ শতাংশ। পর্তুগাল ১৮.৯ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে দ্বিতীয় এবং ক্রোয়েশিয়া ১৬.১ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। পুরো ইউরোজোন এলাকায় আবাসন মূল্য সূচক যেখানে গড়ে মাত্র ৫.১ শতাংশ বেড়েছে এবং ইইউ-ভুক্ত ২৭টি দেশে গড় বৃদ্ধির হার ছিল ৫.৫ শতাংশ, সেখানে পর্তুগালের এই ১৮.৯ শতাংশের উল্লম্ফন কয়েক গুণ বেশি। এই পরিসংখ্যানটি পর্তুগালের রিয়েল এস্টেট বাজারে চলা এক ভয়াবহ অস্থিরতাকেই ফুটিয়ে তুলছে, যা মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আবাসন খাতের এই তীব্র সংকট পর্তুগালের সামাজিক কাঠামোতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে লিসবন ও পোর্তোর মতো বড় শহরগুলোতে বাড়ি ভাড়া বা কেনা এখন সাধারণ মানুষের জন্য এক দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। ইউরোপের গড় বৃদ্ধির তুলনায় পর্তুগালের এই অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি নির্দেশ করছে যে, দেশটির আবাসন নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন না এলে অদূর ভবিষ্যতে সাধারণ নাগরিকদের নিজস্ব মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।


