ভিয়েতনাম থেকে ইউরোপে মানবপাচারে লিপ্ত একটি বিশাল অপরাধী চক্রকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পুলিশ সংস্থা ‘ইউরোপোল’। গত ৩০শে মার্চ ফ্রান্সের নেতৃত্বে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে চক্রের মূল হোতাসহ মোট ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রটি মূলত ভিয়েতনামি নাগরিকদের বিভিন্ন দেশ ঘুরিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে ছোট নৌকায় করে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পাঠাত। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মূল হোতাকে জার্মানি থেকে এবং একজন উচ্চপর্যায়ের সংগঠককে হাঙ্গেরি থেকে আটক করা হয়েছে।
তদন্তে উঠে এসেছে যে, পাচারকারীরা ভিয়েতনামি নাগরিকদের প্রথমে স্বল্পমেয়াদী ভিসা দিয়ে হাঙ্গেরিতে প্রবেশ করাত এবং সেখান থেকে আকাশপথে ফ্রান্সে নিয়ে আসত। প্যারিসে কিছুদিন রাখার পর তাদের উত্তর ফ্রান্সে একটি কুর্দি-ইরাকি গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হতো, যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের সমুদ্রপথে যুক্তরাজ্যে পৌঁছে দিত। এই দীর্ঘ ও বিপজ্জনক যাত্রার বিনিময়ে দালালেরা একেকজন অভিবাসীর কাছ থেকে ২২,০০০ ইউরো বা প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিত। চক্রটি প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ১৫ জন অভিবাসীকে এভাবে পাচার করত বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ভিয়েতনামি অভিবাসীদের এই ধরণের ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার ভয়াবহতা ২০১৯ সালে বিশ্ববাসীর নজরে আসে, যখন যুক্তরাজ্যে একটি কন্টেইনার থেকে ৩৯ জন ভিয়েতনামির লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। এবারের অভিযানে ইউরোপোল বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও পাসপোর্ট জব্দ করেছে। উল্লেখ্য, পাচার রোধে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে গত ৩রা এপ্রিলও ইউরোপোল অন্য একটি চক্রের ১৯ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছিল। বর্তমান এই অভিযানের মাধ্যমে ভিয়েতনাম-ইউরোপ মানবপাচার রুটে বড় ধরণের আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


