আগামী ৩ জুন (বুধবার) পর্তুগাল জুড়ে একটি ঐতিহাসিক সাধারণ ধর্মঘট বা ‘জাতীয় পক্ষাঘাত’ কর্মসূচি পালিত হতে যাচ্ছে। সরকারের নতুন শ্রম সংস্কার আইনের বিরোধিতায় দেশটির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন ‘সিজিটিপি’ এই ২৪ ঘণ্টার পূর্ণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। এই কর্মসূচির কারণে পর্তুগালের বিমান চলাচল খাতসহ সামগ্রিক গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার বা অচল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক পর্যটন এবং ইউরোপের রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলবে।
পর্তুগালের সিভিল এভিয়েশন ক্যাবিন ক্রু ইউনিয়ন এই ধর্মঘটে পূর্ণ সমর্থন ও অংশগ্রহণের ঘোষণা দেওয়ায় আকাশপথে বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, ৩ জুনের এই ধর্মঘটের ফলে পর্তুগালের আকাশসীমায় এবং বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৫০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে পর্তুগালের জাতীয় বিমান সংস্থা টিএপি, পর্তুগালিয়া ও সাটা ছাড়াও দেশটির বিমানবন্দরগুলোকে বেস করে চালানো রায়য়ানএয়ার এবং ইজিজেট এর মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক বাজেট এয়ারলাইন্সের শিডিউল মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হতে পারে।
পরিবহন ও যোগাযোগ শ্রমিকদের ফেডারেশন এই ধর্মঘটে তাদের শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে। এর ফলে ৩ জুন পর্তুগালের ট্রেন, ফেরি, বাস বা মেট্রো চলাচল এক প্রকার বন্ধ থাকবে। ধর্মঘটের আওতায় থাকা প্রধান পরিবহন নেটওয়ার্কগুলোর মধ্যে রয়েছে লিসবন ও পোর্তো মেট্রো, পর্তুগিজ রেলওয়ে, ট্রানস্তেজো ও সোফলুসার ফেরি সার্ভিস, এবং কারিস, এসটিসিপি ও ফের্তাগুস ট্রেন লাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলো।
পরিবহন খাতের পাশাপাশি এই ধর্মঘটে শামিল হচ্ছেন স্থানীয় পৌরসভার কর্মচারী, বাণিজ্যিক কর্মী, স্থাপত্যবিদ, সরকারি হাসপাতালের ডাক্তার-নার্স এবং স্কুল শিক্ষকেরা। ফলে ওইদিন পর্তুগালের আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালগুলোর সাধারণ সেবাও পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়বে।
পর্তুগাল সরকার সম্প্রতি ক্যাবিনেটে একটি নতুন শ্রম আইন বা ‘লেবার প্যাকেজ’ অনুমোদন করেছে, যা বর্তমানে পার্লামেন্টে আলোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। শ্রমিক ইউনিয়নগুলোর মতে, এই নতুন আইনটি শ্রমিকদের অধিকারের ওপর একটি “নজিরবিহীন আঘাত”। এই আইনের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর জন্য কর্মী ছাঁটাই করা অনেক সহজ হবে এবং আউটসোর্সিংয়ের ওপর থেকে সমস্ত আইনি সীমা তুলে নেওয়া হবে, যা কর্মীদের কর্মসংস্থানকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেবে। আর এই অনিশ্চয়তা থেকে বাঁচতেই দেশজুড়ে এই কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দ্য রেসিডেন্ট


