ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে সেনজেন ভিসায় প্রচলিত কাগজের স্টিকারের পরিবর্তে যুক্ত হচ্ছে ডিজিটাল ব্যবস্থা। ২০২৬ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া এই নতুন পদ্ধতিতে ভ্রমণকারীদের তথ্য একটি নিরাপদ ও এনক্রিপ্টেড টু-ডি কিউআর কোডে সংরক্ষিত থাকবে। মূলত ভিসার জালিয়াতি, চুরি বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমাতে এবং প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ১০ লাখেরও বেশি আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে এই ডিজিটাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এই নতুন ব্যবস্থার কেন্দ্রে থাকছে ‘ইইউ ভিসা অ্যাপ্লিকেশন প্ল্যাটফর্ম’ , যেখানে ভ্রমণকারীরা অনলাইনে ফরম পূরণ, ফি প্রদান এবং আবেদনের অবস্থা সরাসরি ট্র্যাক করতে পারবেন। ডিজিটাল ভিসার ফলে কনসুলেটে দীর্ঘ সময় পাসপোর্ট জমা রাখার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাবেন পর্যটকরা। তবে প্রথমবার আবেদনকারীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক ডেটা (আঙুলের ছাপ ও ছবি) দিতে হবে, যা পরবর্তী ৫ বছরের জন্য বৈধ থাকবে। এর ফলে একবার বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করা থাকলে পরের ৫ বছর ঘরে বসেই ভিসা রিনিউ করা সম্ভব হবে।
সেনজেন এলাকার অন্যতম প্রবেশদ্বার হিসেবে পর্তুগালের জন্য এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ডিজিটাল সিস্টেমের ফলে লিসবন বা পোর্তোর মতো বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে। পুরো ব্যবস্থাটি ২০২৮ সালের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রূপ পাবে এবং পরবর্তীতে এটি ইউরোপের ‘এন্ট্রি/এক্সিট সিস্টেম’ ও ‘এতিয়াস’ এর সাথে যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও আধুনিক ও সুরক্ষিত স্তরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।


