হাঙ্গেরিতে শুরু হয়েছে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচন। দীর্ঘ ১৬ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ‘অ-উদারপন্থী’ শাসনের বিরুদ্ধে এবার শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র, বর্তমানে বিরোধী দলীয় নেতা পেতের মাগিয়ার। সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণকে বিশ্লেষকরা অরবানের নেতৃত্বের ওপর একটি ‘গণভোট’ হিসেবে দেখছেন।
২০১০ সাল থেকে হাঙ্গেরির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা ভিক্টর অরবান এবারই প্রথম একীভূত ও শক্তিশালী বিরোধীদের মুখোমুখি হয়েছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পেতের মাগিয়ার ২০২৪ সালে একটি শিশু যৌন নির্যাতন মামলার আসামিকে ক্ষমা করার কেলেঙ্কারির জেরে সরকার ত্যাগ করেন এবং ‘তিসা’ (Tisza) পার্টি গঠন করেন। জনমত জরিপকারী সংস্থা ‘মেদিয়ান’-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাগিয়ারের দল সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে রয়েছে, যা অরবানের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে।
হাঙ্গেরির এই নির্বাচনের ফলাফল ব্রাসেলস থেকে ওয়াশিংটন পর্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অরবান দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতি ও ইউক্রেন সহায়তা প্যাকেজে ভেটো দিয়ে আসছিলেন। এছাড়া রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ইইউ-র জন্য উদ্বেগের কারণ। মাগিয়ার জয়ী হলে ইইউ ও ন্যাটোর সঙ্গে হাঙ্গেরির সম্পর্কের তিক্ততা কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, অরবানের সমর্থনে প্রচারণা চালিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ফরাসি নেত্রী মেরিন লে পেন।
এবারের নির্বাচনী প্রচারণা ছিল ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং বিদেশি হস্তক্ষেপের অভিযোগে ভরপুর। অরবান তার বক্তব্যে এই নির্বাচনকে ‘যুদ্ধ ও শান্তির’ লড়াই হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং বিরোধীদের ব্রাসেলসের ‘পুতুল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। অন্যদিকে, মাগিয়ার গুরুত্ব দিয়েছেন দুর্নীতি দমন, জীবনযাত্রার ব্যয় হ্রাস এবং জনসেবার ওপর। রাশিয়ার কাছে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ এবং কথিত ‘সেক্স টেপ’ বিতর্ক প্রচারণার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছিল।


