পর্তুগালের প্রধান বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় এবং দীর্ঘ লাইনের কারণে আবারও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হয়েছে। রবিবার লিসবন, পোর্তো এবং ফারো বিমানবন্দরের প্রস্থান পয়েন্টগুলোতে এই বিঘ্ন ঘটে। মূলত যাত্রীরা যাতে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে ফ্লাইট মিস না করেন, তা নিশ্চিত করতেই দেশটির জননিরাপত্তা পুলিশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সুপারিনটেনডেন্ট সার্জিও সোয়ারেস জানিয়েছেন, শেনজেন এলাকার বাইরে যাওয়ার জন্য লিসবনের হাম্বারতো ডেলগাডো, পোর্তোর ফ্রান্সিসকো সা কার্নেইরো এবং ফারোর গাগো কৌতিনহো বিমানবন্দরে সকাল থেকেই যাত্রীদের ব্যাপক চাপ তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপেক্ষার সময় সহনীয় পর্যায়ে আনতে পিএসপি তাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা ব্যবহার করছে। এর আগে শনিবার সকালেও একই কারণে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপত্তা প্রোটোকল কঠোরভাবে মানা হলেও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের কাজ আপাতত বন্ধ আছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই তা পুনরায় শুরু হবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন গত শুক্রবার থেকে অ-ইইউ নাগরিকদের জন্য নতুন স্বয়ংক্রিয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শতভাগ কার্যকর করেছে। এই ব্যবস্থার আওতায় পাসপোর্ট স্ট্যাম্পের পরিবর্তে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছবি ও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা হয়। তবে ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে চালু হওয়া এই পদ্ধতির কারণে পর্তুগালের আকাশপথের সীমান্তে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে লিসবন বিমানবন্দরে এই সমস্যাটি প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে ডিসেম্বরের শেষ দিকেও লিসবন বিমানবন্দরে পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিন মাসের জন্য এই বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া স্থগিত করেছিল সরকার। বর্তমানে আগমনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও প্রস্থানের সময় যাত্রীদের সুবিধার্থে এবং সময় বাঁচাতে বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ স্থগিত রাখার এই সিদ্ধান্ত বর্তমান সংকটের গভীরতাকে প্রকাশ করছে।


