স্পেনে অনিয়মিতভাবে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীর আইনি মর্যাদা পাওয়ার পথ প্রশস্ত করে ঐতিহাসিক ‘অভিবাসী ক্ষমা’ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেস গত মঙ্গলবার মন্ত্রিসভায় একটি রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে অভিবাসন আইন সংশোধনের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন। আজ বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে এই বৈধকরণের আবেদন প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
সানচেস সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপকে ‘ন্যায়সঙ্গত এবং প্রয়োজনীয়’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এক বার্তায় জানিয়েছেন, “আমরা অধিকার স্বীকার করি, কিন্তু দায়িত্বও দাবি করি।” তাঁর মতে, যারা ইতিমধ্যে স্পেনে বসবাস করছেন এবং অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন, তাঁদের ‘সমান শর্তে’ থাকা এবং কর দেওয়া উচিত। এই সংস্কারের মাধ্যমে মূলত লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার (বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা) কয়েক লাখ অভিবাসী উপকৃত হবেন।
স্পেনের অভিবাসন মন্ত্রী এলমা সাইস জানিয়েছেন, আবেদনকারীদের অবশ্যই ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে স্পেনে প্রবেশ করতে হবে এবং অন্তত পাঁচ মাস ধরে দেশটিতে বসবাসের প্রমাণ দিতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড থাকা যাবে না। যারা শর্ত পূরণ করবেন, তাঁরা প্রাথমিক পর্যায়ে এক বছরের জন্য বাসস্থান ও কাজের অনুমতি পাবেন। আবেদনকারীদের নাবালক সন্তানরাও একই সঙ্গে আইনি মর্যাদা পাবে এবং তারা পাঁচ বছরের জন্য অনুমতি পাবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত ইউরোপের অন্যান্য দেশের অভিবাসন নীতির সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে অনেক দেশই সীমানা কড়াকড়ি ও প্রত্যাবাসন বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। সানচেস সরকারের মতে, স্পেনের শ্রমঘাটতি পূরণ এবং পেনশন ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য অভিবাসীদের আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে যুক্ত করা জরুরি। তবে বিরোধী দল পিপলস পার্টি (পিপি) এই পদক্ষেপকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছে এবং কট্টরপন্থী দল ‘ভক্স’ এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে, ক্যাথলিক চার্চ এবং বিভিন্ন নিয়োগকর্তা সংগঠন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।


