ফ্রান্সের জিসেল পেলিকট মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই ইন্টারনেটের এক নারকীয় অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে, যাকে বলা হচ্ছে অনলাইন ‘রেপ একাডেমি’ বা ধর্ষণের পাঠশালা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক দীর্ঘ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মূলধারার পর্নোগ্রাফি সাইট এবং গোপন চ্যাটরুম ব্যবহার করে কীভাবে নারীদের অচেতন করে যৌন নির্যাতনের কৌশল শেখানো হচ্ছে। এই চক্রের ভয়াবহতা এতটাই যে, একটি নির্দিষ্ট সাইটের ভিজিটর সংখ্যা ছিল প্রায় ৬২ মিলিয়ন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ‘মাদারলেস ডটকম’ এবং টেলিগ্রামের ‘জেডজেডজেড’ নামক গ্রুপগুলোতে ২০ হাজারের বেশি ভিডিও রয়েছে, যা ‘স্লিপ কনটেন্ট’ নামে পরিচিত। সেখানে অপরাধীরা তাদের স্ত্রী বা সঙ্গিনীকে মাদক খাইয়ে অচেতন করার পর সেই দৃশ্য ধারণ করে আপলোড করে। এমনকি ‘আইচেক’ নামক এক বীভৎস ট্যাগ ব্যবহার করে তারা দেখায় যে ভুক্তভোগী পুরোপুরি অচেতন কি না। অনেক ক্ষেত্রে এই নির্যাতন লাইভ স্ট্রিম করা হয় এবং দর্শকদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট ফি নেওয়া হয়।
দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চায়ের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়া জো ওয়াটস কিংবা ২০ বছর সংসার করার পর স্বামীর কম্পিউটারে নিজের ওপর চলা নির্যাতনের ভিডিও খুঁজে পাওয়া ইতালির ভ্যালেন্টিনার মতো অসংখ্য নারীর জীবন বিষিয়ে তুলেছে এই অনলাইন একাডেমিগুলো। জিসেল পেলিকটের সাহসী পদক্ষেপে অনুপ্রাণিত হয়ে এখন অনেকেই মুখ খুলছেন, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা মাদকপ্রভাবে স্মৃতি হারিয়ে ফেলায় অভিযোগ করার মতো তথ্যও হাতে পান না।


