ইউরোস্ট্যাটের সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২১০০ সাল নাগাদ ইউরোপীয় ইউনিয়নের জনসংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ বা ৫ কোটি ৩০ লক্ষ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে ৪৫ কোটি ২০ লক্ষ জনসংখ্যা থাকলেও শতাব্দীর শেষে তা ৩৯ কোটি ৯০ লক্ষে নেমে আসতে পারে।
জন্মহার হ্রাস এবং প্রবীণদের সংখ্যা বৃদ্ধি এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের মূল কারণ। তবে এই হ্রাসের মাত্রা সব দেশে সমান নয়; লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ডের মতো দেশগুলো তাদের জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসন বা মাইগ্রেশনের কারণে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে। যেসব দেশ নিয়মিত অভিবাসীদের গ্রহণ করছে, যেমন—স্পেন, লুক্সেমবার্গ এবং আয়ারল্যান্ড, তাদের জনসংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে স্পেন তার জনসংখ্যা ধরে রেখে ২১০০ সাল নাগাদ ইতালিকে ছাড়িয়ে ইউরোপের তৃতীয় জনবহুল দেশে পরিণত হতে পারে।
অন্যদিকে, পর্তুগাল তার বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় ১৯.৩ শতাংশ এবং ইতালি ২৫ শতাংশের বেশি নাগরিক হারাতে পারে। শতাব্দীর শেষে ইউরোপের প্রতি তিনজনের মধ্যে একজনের বয়স হবে ৬৫ বছরের বেশি, যা মহাদেশটির কর্মক্ষম জনশক্তি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন- জন্মহার বৃদ্ধি ও অভিবাসী সমাগম দেশগুলকে জনসশূন্য হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।


