পর্তুগালের একীকরণ, অভিবাসন ও আশ্রয় সংস্থা (আইমা) নিজস্ব পরিষেবা কেন্দ্রগুলোতে বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর চুক্তি থাকা সত্ত্বেও জননিরাপত্তা পুলিশকে (পিএসপি) প্রতি বছর ৫ লাখ ইউরো প্রদান করছে। দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় দেশজুড়ে আইমার কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ কর্মকর্তা মোতায়েন রাখা হয়, যা উভয় সংস্থাই একটি ‘বিশেষায়িত সেবা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।
তবে সেবা কেন্দ্রগুলোর বাইরে হাজার হাজার অভিবাসী যখন রোদ-বৃষ্টি ও কনকনে ঠান্ডায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, তখন নিরাপত্তার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থের ব্যবহার নিয়ে সচেতন মহল ও আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম পাবলিকো ব্রাজিল-এর প্রশ্নের জবাবে আইমা ও পিএসপি উভয়েই এই সহযোগিতাকে যৌক্তিক দাবি করেছে। আইমার মতে, বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কেবল নজরদারি ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের কাজ করে। কিন্তু আইমা কেন্দ্রগুলোতে উচ্চ ভিড় ব্যবস্থাপনায় ‘একচেটিয়া পুলিশি ক্ষমতা’ প্রয়োগের জন্য পিএসপির উপস্থিতি জরুরি।
পিএসপি জানিয়েছে, আইনি কাঠামোর আওতাতেই এই অর্থ প্রদান করা হয় এবং এটি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের বহুমুখী দায়িত্বের অংশ। তবে চুক্তি অনুযায়ী প্রদত্ত অর্থের কত অংশ পুলিশের সার্বিক তহবিলে যায় আর কত অংশ দায়িত্বরত কর্মকর্তারা পান, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য মেলেনি।
আইনজীবী ক্যাটারিনা জুকারোসহ অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, অভিবাসীরা কোনো অপরাধ করতে এসব কেন্দ্রে আসেন না; তারা কেবল দেশের বৈধ কাগজপত্রের জন্য আসেন। ফলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন না করে এই ৫ লাখ ইউরো আইমার প্রাতিষ্ঠানিক সেবার মানোন্নয়নে ব্যয় করা যেত।
আইনজীবীরা আরও অভিযোগ করেন, আইমা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিভিন্ন খাত আউটসোর্স করছে। সম্প্রতি ইমেইলের উত্তর দেওয়ার মতো সাধারণ কাজের জন্য ২ লাখ ৩৭ হাজার ইউরোর বেশি ব্যয়ে একটি বেসরকারী কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব ডিজিটাল সিস্টেম ঘন ঘন অফলাইন থাকা এবং দীর্ঘ প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির সংস্কার না করে বাইরে লাখ লাখ ইউরো ঢালার এই নীতিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
তথ্যসূত্র – পাবলিকো


