স্পেনের স্কুলগুলোতে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে রেকর্ড ১১ লাখ ২৫ হাজার ৮৬০ জন অভিবাসী বা বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
স্পেনের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বার্ষিক প্রতিবেদন ‘স্টেট এডুকেশন সিস্টেম ইন্ডিকেটর’-এর ২০২৬ সালের সংস্করণ অনুযায়ী, এই সংখ্যাটি দেশের মোট শিক্ষার্থীর ১২.৯ শতাংশ। ১১৮ পৃষ্ঠার এই বার্ষিক প্রতিবেদনটি প্রথম স্প্যানিশ সংবাদপত্র ‘এল মুন্ডো’-র মাধ্যমে জনসমক্ষে আসে।
দুই দশকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০০ সালে স্পেনের স্কুলগুলোতে মাত্র ১ লাখ ৪১ হাজার ৯১৬ জন অভিবাসী শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছিল, যা ছিল মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২ শতাংশ।
এরপর থেকে এই ভর্তির হার প্রায় অবিচ্ছিন্নভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেবল ২০১১-২০১২ শিক্ষাবর্ষে এই সংখ্যা সামান্য হ্রাস পেয়েছিল, যার পর আবারও প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে। ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে এই সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ১৬ হাজার ৭৩৬ জনে পৌঁছায়। এর ঠিক নয় বছর পর, সংখ্যাটি ১১ লাখের মাইলফলক অতিক্রম করে।
স্পেনে মূলত পাসপোর্ট বা নাগরিকত্বের ভিত্তিতে অভিবাসী শিক্ষার্থী নির্ধারণ করা হয়। যাদের স্প্যানিশ নাগরিকত্ব নেই, তাদেরই কেবল অভিবাসী বা বিদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য করা হয়। দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা শিক্ষার্থীদের স্প্যানিশ নাগরিক হিসেবেই গণনা করা হয়, অভিবাসী হিসেবে নয়।
ফলে, এই ১২.৯ শতাংশের হিসাবটি মূলত শিক্ষার্থীদের পারিবারিক পটভূমির চেয়ে তাদের আইনি নাগরিকত্বকে প্রতিফলিত করে।
শীর্ষে মরক্কো, বাড়ছে লাতিন আমেরিকানদের সংখ্যা
দেশভিত্তিক হিসাবে মরক্কোর শিক্ষার্থীরা বরাবরের মতোই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে, যাদের সংখ্যা প্রায় ২ লাখ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে কলম্বিয়া, যাদের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ লাখ ১৪ হাজার ৪৭৭ জন। এরপর যথাক্রমে রোমানিয়া (৯৭,৬৩৩ জন) এবং ভেনিজুয়েলা (৭৬,৫৭৪ জন)।
এল মুন্ডোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর থেকে লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে আসা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সবচেয়ে দ্রুত গতিতে বাড়ছে, যদিও সামগ্রিক সংখ্যায় মরক্কোই শীর্ষে রয়েছে।
স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ, ভ্যালেন্সিয়া এবং লা রিওহা -তে অভিবাসী শিক্ষার্থীদের অনুপাত সবচেয়ে বেশি।
অভিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৪.৭ শতাংশই সরকারি বা পাবলিক স্কুলগুলোতে ভর্তি হয়েছে। এর অর্থ হলো, বেসরকারি বা অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলগুলোর তুলনায় সরকারি স্কুলেই এই শিক্ষার্থীদের ভর্তির চাপ সবচেয়ে বেশি।
এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বিশেষ চাহিদা’ ক্যাটাগরির আওতায় থাকা শিক্ষার্থীদের অনুপাত ২০১৪ সালের ৫.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
এল মুন্ডো উল্লেখ করেছে যে, এই ক্যাটাগরিটি কেবল শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভর্তি হওয়া, ভিন্ন মাতৃভাষায় কথা বলা কিংবা অন্যান্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হওয়া শিক্ষার্থীরাও এর অন্তর্ভুক্ত।
স্পেনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এই বৃদ্ধির পেছনে জনসংখ্যাগত এবং আইনি কারণগুলোকে চিহ্নিত করেছে।
এল মুন্ডোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রণালয় তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে, ‘অভিবাসনপ্রবাহের ধরন, স্পেনে বিদেশি নাগরিকদের ঘরে শিশুর জন্ম এবং স্প্যানিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রদানের প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে এই ধারাটি নির্ধারিত হয়।’
যেহেতু অনেক বিদেশি পরিবার স্প্যানিশ নাগরিকত্ব লাভ করছে, তাই তাদের সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অভিবাসীর তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রকাশিত এই সংখ্যাটি
মূলত বিদেশি বংশোদ্ভূত পিতামাতা থাকা শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কিছুটা কম।
মন্ত্রণালয় এই প্রবণতাকে ‘অভিবাসন আকর্ষণের ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করে একে একটি বাস্তবসম্মত চিত্র বলে বর্ণনা করেছে, যা ‘শ্রেণিকক্ষ এবং স্কুলগুলোতে বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে এবং বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরি করেছে।’
ইটিয়াস


