চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত পর্তুগালের রাষ্ট্রীয় বাজেট উদ্বৃত্ত নেমে এসেছে মাত্র ২৮ কোটি ২০ লাখ ইউরোতে। গত বছরের একই সময়ে উদ্বৃত্তের পরিমাণ ছিল ২০০ কোটিরও বেশি ইউরো। ফলে এক বছরের ব্যবধানে দেশটির সরকারি আর্থিক ভারসাম্যে বড় ধরনের অবনতি ঘটেছে।
পর্তুগালের বাজেটারি এন্টিটি প্রকাশিত এক নথিতে বলা হয়েছে, সাধারণ সরকারের আর্থিক ভারসাম্য কমেছে ২০৪ কোটি ১ লাখ ইউরো। মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক ভারসাম্য কমে যাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
নথি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারের ভারসাম্য কমেছে ৩৫০ কোটি ৯ লাখ ইউরো। তবে জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বা এনএইচএসের বকেয়া ঋণ পরিশোধের প্রভাব বাদ দিলে এই হ্রাসের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২৪ কোটি ১২ লাখ ইউরো।
তবে কেন্দ্রীয় সরকারের এই নেতিবাচক অবস্থার কিছুটা প্রভাব সামাল দিয়েছে সামাজিক নিরাপত্তা, স্থানীয় সরকার ও আঞ্চলিক সরকারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি।
এ সময় সামাজিক নিরাপত্তা খাতের ভারসাম্য বেড়েছে ১২০ কোটি ৯ লাখ ইউরো। স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে বেড়েছে ১৯ কোটি ৮০ লাখ ইউরো এবং আঞ্চলিক সরকারের ভারসাম্য বেড়েছে ৬ কোটি ২০ লাখ ইউরো।
অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি বেড়েছে
সরকারি আর্থিক উদ্বৃত্ত কমলেও পর্তুগালের অর্থনীতি নিয়ে তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক খবর দিয়েছে দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা আইএনই।
সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে পর্তুগালের অর্থনীতি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। প্রান্তিকভিত্তিক হিসেবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।
এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি বেড়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় যেমন প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, তেমনি চলতি বছরের আগের তিন প্রান্তিকের তুলনাতেও অর্থনীতি দ্রুতগতিতে এগিয়েছে।
দ্বিতীয় প্রান্তিকে দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৫ শতাংশে। আগের প্রান্তিকে এই হার ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ।
আইএনই জানিয়েছে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে জিডিপির বার্ষিক প্রবৃদ্ধিতে নিট বৈদেশিক চাহিদার নেতিবাচক প্রভাব কমেছে। আমদানির প্রবৃদ্ধি বাড়লেও রপ্তানি আরও দ্রুতগতিতে বাড়ায় এ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ চাহিদার ইতিবাচক অবদান কমেছে। মূলত বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ চাহিদার অবদান হ্রাস পেয়েছে।
প্রান্তিকভিত্তিক হিসাবে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৮ শতাংশে। আগের প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ।
আইএনইর ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হওয়ার পেছনে নিট বৈদেশিক চাহিদার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
আগের প্রান্তিকে যেখানে নিট বৈদেশিক চাহিদার অবদান ছিল নেতিবাচক ২ শতাংশীয় পয়েন্ট, সেখানে দ্বিতীয় প্রান্তিকে তা ইতিবাচক শূন্য দশমিক ৭ শতাংশীয় পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
পণ্য ও সেবা রপ্তানির প্রবৃদ্ধি বেড়ে যাওয়া এবং একই সময়ে পণ্য ও সেবা আমদানির গতি কমে আসায় এই পরিবর্তন ঘটেছে।
তবে অভ্যন্তরীণ চাহিদার অবদান কমেছে বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়ার কারণে।
আইএনই জানিয়েছে, সর্বশেষ প্রকাশিত এসব তথ্য গত জুলাইয়ের শেষ দিকে সংস্থাটির দেওয়া প্রাথমিক বা ফ্ল্যাশ অনুমানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।


