গত মাসে লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরে বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন দিয়ে হামলাচেষ্টার ঘটনার জন্য রাশিয়াকে সরাসরি দায়ী করেছে জার্মানি। এর প্রতিক্রিয়ায় দেশটির বন শহরে অবস্থিত একটি রুশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়াসহ মস্কোর বিরুদ্ধে একাধিক কঠোর কূটনৈতিক ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বার্লিন।
জার্মানির এই সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে এবং ইইউ প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের সঙ্গে আলোচনা শেষে একযোগে রাশিয়ার এই ‘হাইব্রিড হামলার’ তীব্র নিন্দা জানান।
মার্ক রুটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘লাইপজিগ এবং জোটের অন্যান্য এলাকায় সংঘটিত বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ডসহ যেকোনো হুমকির বিরুদ্ধে সব মিত্রকে সুরক্ষা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলার সক্ষমতা ন্যাটো অব্যাহত রাখবে।’ তিনি জানান, বার্লিন মস্কোর জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ হাজির করেছে। রুটে আরও বলেন, ‘আমাদের ভয় দেখানো, আমাদের ঐক্য নষ্ট করা এবং ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়া থেকে পিছু হটানোর যেকোনো রুশ চেষ্টা ব্যর্থ হবে।’
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন বলেন, ‘জার্মানির এই পদক্ষেপের বার্তা স্পষ্ট: এমন হাইব্রিড হামলার কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’ তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত আরও কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁও এই হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে নতুন ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞার প্রতি তাঁর দেশের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন।
গত ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় লাইপজিগ বিমানবন্দরে একটি ইউক্রেনীয় বিমানের কাছে বিস্ফোরকবাহী ওই ড্রোনটি পাওয়া গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে নিষ্ক্রিয় করা হয়। তদন্তের পর জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোবরিন্ডট জানান, ড্রোনের যন্ত্রাংশ, বিস্ফোরক ও ডেটনেটর পরীক্ষা করে দেখা গেছে এগুলো রাশিয়ার ব্যবহৃত চেনা ধরনের উপাদান, যা অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনার প্রমাণ দেয়। তিনি নিশ্চিত করেন, গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী হামলাচেষ্টায় জড়িত ব্যক্তিরা সরাসরি রুশ রাষ্ট্রীয় সংস্থার নির্দেশে কাজ করছিল।
জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াডেফুল ঘোষণা করেন, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার জবাবে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বন-এ অবস্থিত রুশ কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়া হবে। একই সাথে বার্লিনে অবস্থিত রুশ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘রাশিয়ান হাউস’ পরিচালনার চুক্তিটিও বাতিল করা হবে। এছাড়া জার্মানি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আরও রুশ নাগরিকদের নাম যুক্ত করার প্রস্তাব দেবে এবং নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত রুশ তেলের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া জাহাজের ওপর নজরদারি আরও বাড়াবে।
জার্মানির এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় মস্কো জানিয়েছে, বার্লিনের এই ‘রাশিয়া-বিরোধী সিদ্ধান্তের’ কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইন্টারফ্যাক্স নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, লাইপজিগ/হালে বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন এবং ইউক্রেনকে সহায়তা পাঠানোর একটি বড় কেন্দ্র। ইউক্রেনের বিখ্যাত আন্তোনভ কার্গো বিমান নিয়মিত এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে। এছাড়া ফিনল্যান্ড থেকে রোমানিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত ন্যাটোর পূর্ব প্রান্তে সামরিক সরঞ্জাম পাঠাতে ব্যবহৃত ‘স্ট্র্যাটেজিক এয়ারলিফ্ট ইন্টারন্যাশনাল সলিউশন’-এর গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমও এখান থেকেই পরিচালিত হয়। এর আগে ২০২৪ সালেও বিমানবন্দরে একটি কন্টেইনারে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল, যার পেছনেও রুশ গোয়েন্দাদের হাত ছিল বলে পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সন্দেহ করেন।


