মরক্কো থেকে উত্তর আফ্রিকার স্প্যানিশ ছিটমহল সেউতায় শত শত অভিবাসীর অবৈধ অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে ইউরোপে তৈরি হয়েছে চরম কূটনৈতিক উত্তেজনা। সেউতার নিরাপত্তা রক্ষায় স্পেন সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করলেও স্পেনের সঙ্গে মুক্তভাবে চলাচলের এলাকা ‘শেনজেন সীমা’ বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে ইতালি।
ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি এবং প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন ইউরোপের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি। স্পেন সরকারের প্রায় পাঁচ লাখ অনিয়মিত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার আগের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তাজানি বলেন, এই পদক্ষেপ মানব পাচারকে উৎসাহিত করেছে এবং মাদ্রিদকে শেনজেন সুবিধা থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া উচিত। এই মন্তব্যের জেরে স্পেনে নিযুক্ত ইতালীয় রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে মাদ্রিদ।
বৃহস্পতিবার মরক্কোর তারাখাল সৈকত থেকে সাঁতরে ও ডিঙি নৌকায় করে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করে শত শত মানুষ। এ সময় অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং গত ১২ মাসে এই সীমান্ত পার হতে গিয়ে প্রাণ গেছে ৬০ জনেরও বেশি মানুষের।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হিমশিম খাওয়ায় এবং জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি তোলার পর স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেখানে শৃঙ্খলা ফেরাতে সেনা মোতায়েন করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সেউতা সফরের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় কমিশন তাদের সীমান্ত সুরক্ষা সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স’-এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
স্পেন ও মরক্কো সীমান্ত অতিক্রমকারী অভিবাসীদের দ্রুত স্বদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হলেও কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করেনি। তবে সীমান্তে মরক্কোর সহায়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্পেনের সিভিল গার্ড বাহিনী। তাদের দাবি, সীমান্ত পারাপার রুখতে মরক্কোর আধা-সামরিক পুলিশের পদক্ষেপ একেবারেই অপ্রতুল ছিল। ২০২১ সালেও এই সীমান্তে একইভাবে ১০,০০০ মানুষ প্রবেশ করায় চরম সংকট তৈরি হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: ইউরো নিউজ


