জ্বালানি তেল, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের দাম কম হওয়ায় পর্তুগাল সীমান্ত পেরিয়ে স্পেনে গিয়ে কেনাকাটা করছেন অনেক পর্তুগিজ নাগরিক। অর্থ সাশ্রয়ের উদ্দেশ্যে সৌসেল সিটি কাউন্সিলের চালক ফ্রান্সিসকো বোইনহো প্রতিমাসে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে স্পেনে যান।
তিনি বলেন, ‘পর্তুগালে গ্যাসের দুটি বোতলের দাম ৩৫ ইউরো, আর আমি স্পেনে গাড়ি ভর্তি করে মাত্র ৫০ ইউরোয় তেল ভরেছি। এখন কারফোরে গিয়ে কিছু ডিটারজেন্ট কিনব, এভাবে আমার নিশ্চিতভাবেই ৭০ থেকে ৮০ ইউরো সাশ্রয় হবে।’
পর্তুগালে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম স্পেনের দুটি সিলিন্ডারের চেয়েও বেশি। জ্বালানি তেলের দামের ক্ষেত্রেও ব্যবধান বেশ লক্ষণীয়; সীমান্তের স্প্যানিশ অংশে প্রতি লিটার পেট্রোল বা ডিজেলের দাম প্রায় ৫০ সেন্ট কম।
ফ্রান্সিসকো বোইনহো আক্ষেপ করে বলেন, ‘পর্তুগালের চেয়ে স্পেনের ন্যূনতম মজুরি পেলে আমি সেটাই বেশি পছন্দ করতাম।’ স্পেনে ন্যূনতম মজুরি ১,২২১ ইউরো, যেখানে পর্তুগালে তা মাত্র ৯২০ ইউরো।
স্পেনে টাকা বাঁচানোর এই সুযোগ বিভিন্ন আয়ের মানুষকে আকৃষ্ট করছে। সীমান্ত অঞ্চলে যাঁদের দ্বিতীয় বাড়ি রয়েছে, এমন মিগুয়েল বাতিস্তাও দামের এই পার্থক্যের সুবিধা নেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘আমার খুব কাছাকাছিই একটি বাড়ি আছে। এই ট্যাংক পূর্ণ করলে আমার প্রায় ৪০ ইউরো সাশ্রয় হবে।’ তিনি গ্যাস বাজারেও সুবিধা পেতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি গ্যাস কিনতে ৩০ ইউরো দিই, অথচ এখানে এর দাম ১৫ ইউরোর কিছু বেশি। আমিও এখন থেকে এখানে আসা শুরু করব, এতে বেশ লাভ আছে।’
তবে কেনাকাটার এই যাত্রা কেবল জ্বালানি তেল ও গ্যাসে সীমাবদ্ধ থাকে না। পর্তুগিজরা যাতায়াতের এই সুযোগ নিয়ে সুপারমার্কেটে গিয়ে ডিটারজেন্ট, রান্নাঘরের টিস্যু এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও কিনে নেন। এক ভোক্তা জানান, ‘আমি কিছু চিংড়ি, কিছু মুরগির লেগপিস এবং টয়লেট পেপার কিনেছি। হিসাব করলে দেখা যায় এতে অনেক তফাত গড়ে ওঠে।’
তেরুশেম থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্পেনের কম দামের সুবিধা নিচ্ছেন রিবেইরো পরিবার। জিনিসপত্রের দামের বিষয়ে তাঁরা বলেন, ‘এটি অবিশ্বাস্য।’ সাত সদস্যের একটি পরিবারের জন্য এই দামের পার্থক্য মাসিক বাজেটে বেশ বড় প্রভাব ফেলে।
তাঁরা বলেন, ‘মাসের শেষে হিসাব করলে দেখা যায় অনেক সাশ্রয় হয়েছে। সাত সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে মাসের শেষে আমরা ভাবি: সেখানে গিয়ে আমরা অতিরিক্ত ২০০ বা ৩০০ ইউরো বাঁচাতে পেরেছি।’ রিবেইরো পরিবারের কাছে স্পেনের দিকে যাওয়া এই ৪০ কিলোমিটার পথ তাই বেশ লাভজনক একটি ভ্রমণ।


