পর্তুগালের অভিবাসন সংস্থা আইমাকে ঘিরে আইনি মামলাগুলো আর শুধু লিসবনের একটি আদালতেই পরিচালিত হবে না। নতুন একটি প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব মামলা এখন থেকে দেশের বিভিন্ন আদালতে বণ্টন করা হবে।
ইসিওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলা করা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বাসার ঠিকানা অথবা নিবন্ধিত কার্যালয়ের অবস্থান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলাগুলো পাঠানো হবে।
পর্তুগালের প্রশাসনিক ও কর আদালত সংস্কারের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এ প্রস্তাব করা হয়েছে। খসড়া আইন ৯৮/১৭-এর অন্তর্ভুক্ত এই সংস্কার নিয়ে ১৬ সেপ্টেম্বর সংসদে আলোচনা হয়েছে।
বর্তমানে আইমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলাগুলো লিসবনের প্রশাসনিক আদালতেই কেন্দ্রীভূত। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে দেশের বিভিন্ন এলাকার আদালতে এসব মামলার শুনানি হবে।
তবে সরকার আলাদা কোনো অভিবাসন আদালত গঠনের পরিকল্পনা করছে না। এর পরিবর্তে বিদ্যমান আদালতগুলোর মধ্যে বিশেষায়িত বিভাগ গঠন করা হবে।
এসব বিভাগ বিদেশি নাগরিকদের পর্তুগালে প্রবেশ, বসবাস ও দেশত্যাগ এবং বহিষ্কার-সংক্রান্ত মামলার শুনানি করবে। পাশাপাশি আশ্রয়, বিকল্প সুরক্ষা ও সাময়িক সুরক্ষা-সংক্রান্ত প্রশাসনিক মামলাও এসব বিভাগে পরিচালিত হবে।
বিচারমন্ত্রী রিতা আলারকাও জুদিস বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ক্রমবর্ধমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠা এই খাতে আদালতগুলোর বিশেষজ্ঞ দক্ষতা বাড়ানোই এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য। এর মাধ্যমে অভিবাসন ও আশ্রয় বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন চুক্তির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গেও পর্তুগালের বিচারব্যবস্থাকে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে প্রস্তাবিত সংস্কার শুধু অভিবাসন মামলাতেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রশাসনিক আদালতগুলোর ওপর চাপ কমাতে আরও কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রশাসনিক ও কর আদালতের সর্বোচ্চ পরিষদকে মামলাগুলো বণ্টনের ক্ষেত্রে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে। কোনো বিচারকের কাছে বছরে সর্বোচ্চ কতটি মামলা দেওয়া যাবে, তা নির্ধারণ করতে পারবে পরিষদ। পাশাপাশি কোন আদালতে মামলার চাপ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে, তা চিহ্নিত করতে নির্দিষ্ট মানদণ্ডও চালু করা হবে।
অতিরিক্ত বিচারকদের একটি বিশেষ পুল থেকে একই ভৌগোলিক এলাকার অন্য কোনো আদালত বা বিশেষায়িত বিভাগে সাময়িকভাবে বিচারক পাঠানো যাবে। কোনো পদ শূন্য থাকলে অথবা মামলার সংখ্যা, জটিলতা কিংবা দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকার কারণে অতিরিক্ত সহায়তার প্রয়োজন হলে এমনটি করা যাবে।
তবে কোনো বিচারককে অন্যত্র বদলি করতে হলে তাঁর সম্মতি প্রয়োজন হবে। এ ধরনের বদলিতে তাঁর ব্যক্তিগত বা পারিবারিক জীবনে গুরুতর বিঘ্ন ঘটানো যাবে না।
আদালতের প্রচলিত প্রক্রিয়ার বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্যও নতুন কিছু ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর মধ্যে একটি হলো সরকারি চুক্তি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ একটি বিভাগ গঠন। সর্বোচ্চ ৩৫ দিনের মধ্যে এসব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্য রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি দরপত্র ও অন্যান্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা কমাতে চায় সরকার।
রাষ্ট্রের কোনো পদক্ষেপের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ক্ষতিপূরণ দাবি করা ব্যক্তিদের জন্যও স্বেচ্ছামূলক একটি প্রক্রিয়া চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আদালতে মামলা না করেও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া প্রশাসনিক সালিশি কেন্দ্রগুলোর জন্য নতুন নিয়ম এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কিছু চুক্তি বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেলের মাধ্যমে অনুমোদনের ব্যবস্থাও প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক আদালতের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রয়োজন হবে না।


