সাধারণত ভিসার প্রয়োজন হয় এমন তালিকাভুক্ত ৯টি দেশের নাগরিকেরা এখন থেকে কোনো ধরনের ভিসা ছাড়াই ডেনমার্কে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এর জন্য শর্ত একটাই—যাত্রীদের অবশ্যই বৈধ বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট থাকতে হবে। ডেনিশ ইমিগ্রেশন সার্ভিস এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ডেনমার্কের অফিসিয়াল পোর্টাল ‘newtodenmark.dk’-এর তথ্য অনুযায়ী, যেসব দেশের নাগরিকদের ডেনমার্কে প্রবেশ করতে সাধারণত ভিসা নিতে হয়, সেই দীর্ঘ তালিকার মধ্য থেকে সুনির্দিষ্ট ৯টি দেশের নাগরিকদের জন্য এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
যে ৯টি দেশের নাগরিকরা বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট থাকলে ভিসা ছাড়াই ডেনমার্কে প্রবেশ করতে পারবেন, সেগুলোর তালিকা ও শর্তগুলো হলো:
১. আলবেনিয়া: ২০১০ সালের মে মাস থেকে ইস্যুকৃত বায়োমেট্রিক পাসপোর্টধারী।
২. আর্মেনিয়া: বায়োমেট্রিক পাসপোর্টধারীরা এই সুবিধার আওতাভুক্ত।
৩. বসনিয়া-হার্জেগোভিনা: ২০০৯ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে ইস্যুকৃত বায়োমেট্রিক পাসপোর্টধারী।
৪. জর্জিয়া: ২০১৪ সালের ২৮ জুলাইয়ের পর থেকে ইস্যুকৃত সব পাসপোর্ট বায়োমেট্রিক হতে হবে (তবে এই ছাড় কূটনৈতিক, সেবা, অফিসিয়াল বা বিশেষ পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)।
৫. কাজাখস্তান: বায়োমেট্রিক পাসপোর্টধারীরা এই ছাড় পাবেন।
৬. কসোভো: ২০১১ সালের অক্টোবর থেকে ইস্যুকৃত বায়োমেট্রিক পাসপোর্টধারী।
৭. মোলদোভা: ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ইস্যুকৃত বায়োমেট্রিক পাসপোর্টধারী।
৮. মন্টিনেগ্রো: ২০০৮ সালের মে থেকে ইস্যুকৃত বায়োমেট্রিক পাসপোর্টধারী (বর্তমানে দেশটির সব নতুন পাসপোর্টই বায়োমেট্রিক)।
৯. উত্তর মেসিডোনিয়া: ২০০৭ সালের এপ্রিল থেকে ইস্যুকৃত বায়োমেট্রিক পাসপোর্টধারী।
এ ছাড়া ডেনমার্কের ভিসা নিয়ম অনুযায়ী তিউনিশিয়া ও সার্বিয়ার নাগরিকেরাও বায়োমেট্রিক পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এই ভিসামুক্ত সুবিধার আওতায় রয়েছেন, যদিও মূল তালিকার অন্য বিভাগে ফুটনোট হিসেবে তাদের নাম আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নাইজেরিয়া, ঘানা, কেনিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই বায়োমেট্রিক ছাড় প্রযোজ্য নয়; ফলে তাঁদের ডেনমার্কে প্রবেশের জন্য আগের মতোই নিয়মিত ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট কী?
ই-পাসপোর্ট নামেও পরিচিত বায়োমেট্রিক পাসপোর্টে একটি এমবেডেড ইলেকট্রনিক চিপ থাকে। এই চিপে ধারকের ব্যক্তিগত ডেটা, মুখের ছবি এবং ক্ষেত্রবিশেষে আঙুলের ছাপ সংরক্ষিত থাকে। এই চিপের কারণে পাসপোর্ট জাল করা অত্যন্ত কঠিন এবং এটি স্বয়ংক্রিয় গেটে বর্ডার প্রসেসিংয়ের কাজ দ্রুত করতে সাহায্য করে।
উল্লিখিত ৯টি দেশের ভ্রমণকারীদের জন্য বৈধ বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট থাকা মানে ডেনমার্কের ভিসার জন্য আবেদন করার ঝামেলা থেকে মুক্তি পাওয়া, যা ভ্রমণের আগে তাদের সময় ও প্রশাসনিক খরচ উভয়ই বাঁচাবে।


