জার্মানির প্রায় ৫ হাজার ৭০০টি রেলস্টেশনে মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে এ নিয়ম কার্যকর হয়েছে। এর আগে কোলন, মিউনিখ, হামবুর্গ ও বার্লিনের মতো বড় শহরগুলোর স্টেশনসহ দেশটির প্রায় ৪০টি স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এ নিয়ম চালু করে ইতিবাচক ফল পেয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নতুন নিয়মের ফলে এখন থেকে জার্মানির সব রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মও অ্যালকোহলমুক্ত এলাকা হিসেবে গণ্য হবে। তবে এতে সমস্যায় পড়তে পারেন ফুটবল ভক্তরা। কারণ, বুন্দেসলিগার ম্যাচ দেখতে দল বেঁধে ট্রেনে যাওয়ার সময় এখন থেকে আর আগের মতো মদ্যপান করতে পারবেন না তারা।
জার্মানির বিভিন্ন রেলস্টেশনে অ্যালকোহলকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্টেশনগুলোতে মদ্যপান নিষিদ্ধ করার আলোচনা আগে থেকেই চলছিল। সাম্প্রতিক দুটি ঘটনায় সেই দাবি আরও জোরালো হয়।
এর একটি ঘটনায় জার্মানির রাষ্ট্রীয় রেল সংস্থা ডয়চে বান-এর এক নিরাপত্তাকর্মী মদ্যপ এক যাত্রীর টিকিট পরীক্ষা করতে গিয়ে আক্রান্ত হন। দুজনের ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ট্রেনের দরজা খুলে যায়। এ সময় ওই নিরাপত্তাকর্মী ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন।
চলতি বছরের শুরুর দিকে বৈধ টিকিট না থাকা এক ব্যক্তির হামলায় ট্রেনের এক কন্ডাক্টর নিহত হন। এ দুটি ঘটনার পর রেলস্টেশনগুলোকে অ্যালকোহলমুক্ত করার দাবি আরও জোরালো হয়।
তবে স্টেশনগুলোতে থাকা পাব, রেস্তোরাঁ ও এ ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নতুন নিয়মের আওতামুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, এসব প্রতিষ্ঠানে আগের মতোই অ্যালকোহল পরিবেশন করা যাবে। এ ছাড়া অনেক ট্রেনে, বিশেষ করে দূরপাল্লার ট্রেনের রেস্তোরাঁয় আগের মতোই বিয়ার ও অন্যান্য পানীয় পরিবেশন করা হবে।
ডয়চে বান এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রেলস্টেশনগুলোকে আরও নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও যাত্রীদের অপেক্ষার জন্য আরামদায়ক করে তুলতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানায়, দেশজুড়ে নিয়মটি কার্যকরের আগে কোলন, মিউনিখ, হামবুর্গ ও বার্লিনের মতো বড় শহরের স্টেশনসহ প্রায় ৪০টি স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু করা হয়েছিল। এতে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তারা। পরীক্ষামূলকভাবে অ্যালকোহল নিষিদ্ধ করার পর স্টেশনগুলোর পরিবেশ শান্ত হয়েছিল এবং আবর্জনার পরিমাণও কমেছিল।
তবে জার্মানিতে গৃহহীনদের সহায়তায় কাজ করা একটি সংগঠন এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মতে, মদ্যপানে আসক্ত অনেক গৃহহীন মানুষের জন্য রেলস্টেশন নিরাপদ আশ্রয়ের মতো। বিশেষ করে প্রতিকূল আবহাওয়ায় তাঁদের অনেকে স্টেশনে আশ্রয় নেন।
জার্মানির সংবাদপত্র রাইনিশে পোস্ট-কে দেওয়া এক বক্তব্যে সংগঠনটির এক মুখপাত্র বলেন, এ সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। কারণ, রেলস্টেশনের মতো জায়গা থেকে গৃহহীনদের সরিয়ে দেওয়া হলে সমাজকর্মীদের পক্ষে তাঁদের খুঁজে বের করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।


