রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় ১০ লাখ অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন বা স্থলমাইন কেনার পরিকল্পনা করছে ফিনল্যান্ড। এ জন্য প্রায় ১০ কোটি ইউরো ব্যয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করছে হেলসিঙ্কি। এসব মাইন রাশিয়ার সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকায় মোতায়েন করা হতে পারে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থলমাইন কেনার জন্য ফিনল্যান্ড প্রায় ১১ কোটি ২০ লাখ ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করছে। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় করা স্থলমাইন নিষিদ্ধকরণ চুক্তি থেকে ফিনল্যান্ড ও আশপাশের কয়েকটি দেশ বেরিয়ে যাওয়ার পর এ পরিকল্পনার কথা সামনে এল।
ইউক্রেনকে সমর্থন দেওয়া দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়া বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড যুদ্ধ চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মস্কো সামরিক উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে প্রতিবেশী দেশগুলো। এ পরিস্থিতিতে ২০২৫ সালের এপ্রিলে অটোয়া কনভেনশন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় ফিনল্যান্ড। ইউক্রেনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডও একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়ার কাছ থেকে সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করে দেশগুলো এ পদক্ষেপ নেয়।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিনল্যান্ডের সেনাবাহিনীর কমান্ডের কর্নেল রিকু মিকোনেন দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা এসটিটিকে জানিয়েছেন, স্থলমাইন কেনার চুক্তির বিষয়ে সরবরাহকারীদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন কর্মকর্তারা।
ফিনল্যান্ডের লক্ষ্য, দেশটির নিজস্ব উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যেন এসব মাইন সরবরাহ করে। ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ চুক্তি সই এবং ২০২৮ সালের মধ্যে উৎপাদন শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
মিকোনেন বলেন, ‘ফিনিশ কোম্পানিগুলো ফিনল্যান্ডেই স্থলমাইন তৈরি করলে বিভিন্ন দিক থেকে তা উপকারী হবে।’ তিনি জানান, দেশটির প্রায় ছয়টি প্রতিষ্ঠান এসব মাইন তৈরির সক্ষমতা রাখে। তবে বিদেশ থেকে মাইন কেনার সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করা হচ্ছে না।
অটোয়া কনভেনশন থেকে বেরিয়ে যায় ফিনল্যান্ড
স্থলমাইন নির্মূলের লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে গৃহীত অটোয়া কনভেনশনের উদ্দেশ্য হলো অ্যান্টি-পারসোনেল মাইনের ব্যবহার, উৎপাদন ও মজুত নিষিদ্ধ করা এবং মজুত থাকা মাইন ধ্বংস করা। ফিনল্যান্ড ২০১২ সালে এ চুক্তিতে যোগ দিয়েছিল।
তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে ২০২৫ সালের এপ্রিলে চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয় দেশটি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে চুক্তির বাধ্যবাধকতা আর ফিনল্যান্ডের ওপর কার্যকর নেই।
রাশিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি হুমকি মনে করে হেলসিঙ্কি
ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেত্তেরি অর্পো রাশিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাশিয়ার সঙ্গে ফিনল্যান্ডের প্রায় ১ হাজার ৩৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে দেশটি।
ফিনল্যান্ডের অভিযোগ, রাশিয়ার পূর্ব সীমান্ত দিয়ে অভিবাসীদের দেশটিতে প্রবেশে উৎসাহিত করা হয়েছে।
এদিকে, সোমবার ফিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এলিনা ভালতোনেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রুশ নাগরিকদের পর্যটন ভিসা দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘রাশিয়া যত দিন ইউক্রেনে আগ্রাসন চালিয়ে যাবে, তত দিন রুশ নাগরিকদের পর্যটন ভিসা দেওয়া উচিত নয়।’
ভালতোনেন আরও বলেন, ‘তাদের দেশ যখন ইউক্রেনীয়দের বাড়িঘরে বোমা হামলা চালাচ্ছে, তখন রুশ নাগরিকেরা ইউরোপের স্বাধীনতার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, এটা ঠিক নয়।’
তিনি জানান, ২০২৫ সালে শেনজেনভুক্ত দেশগুলো রুশ নাগরিকদের প্রায় পাঁচ লাখ পর্যটন ভিসা দিয়েছিল।
ফিনল্যান্ড ২০২২ সালেই রুশ নাগরিকদের পর্যটন ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এখন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনে করেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য দেশগুলোরও একই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।


