কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগী সদস্যপদ (অ্যাসোসিয়েট মেম্বারশিপ) দেওয়ার একটি পরিকল্পনা আটকে দিয়েছে জার্মানি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের দেখা একটি খসড়া বিবৃতি অনুযায়ী, এর পরিবর্তে চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে অনুষ্ঠিতব্য এক সম্মেলনে উত্তর আমেরিকার এই দেশটিকে জোটের সঙ্গে ‘আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের’ প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতে পারে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন মূলত তাঁর বার্ষিক ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে কানাডাকে ‘সহযোগী সদস্যপদ’ দেওয়ার প্রস্তাবটি প্রথম সামনে এনেছিলেন।তবে শীর্ষ এই ইইউ কর্মকর্তার প্রস্তাবে বিস্তারিত কোনো রূপরেখা না থাকায় এর আওতায় ঠিক কী কী সুবিধা বা শর্ত থাকবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় পড়ে জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলো।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার কানাডার মন্ট্রিলে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের আগে ভন ডার লিয়েনের প্রস্তাবটির বিস্তারিত ব্যাখ্যার লক্ষ্যে ধারাবাহিক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা।
বিবৃতির আগের একটি খসড়ায় বলা হয়েছিল, ২০২৭ সালের পরবর্তী শীর্ষ সম্মেলনের আগে জোট এবং কানাডা যৌথভাবে ‘সহযোগী সদস্যপদের’ একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়নে কাজ করবে।
তবে ঘোষণার সর্বশেষ সংস্করণে বিষয়টি কিছুটা সংকুচিত করে বলা হয়েছে: ‘আমরা ২০২৭ সালের ইইউ-কানাডা শীর্ষ সম্মেলনের মধ্যে পূর্ণ সদস্যপদের বাইরে ইইউর সঙ্গে কানাডার একটি আরও ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্বের রূপরেখা নির্ধারণে কাজ করব।’
এই পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা ছিল জার্মানির; কারণ এর আগে ইউক্রেনের জন্য তাদের একই ধরনের প্রস্তাব সদস্য রাষ্ট্রগুলোর দ্বারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল।
এক ইইউ কূটনীতিক দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘ফ্রিডরিখ মার্জ ইউক্রেনের জন্য সহযোগী সদস্যপদের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়ে যায়। আমার মনে হয় এটি তাদের কাছে এক ধরনের ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় ছিল।’
এছাড়া কানাডাকে এই প্রস্তাব দেওয়ার বিষয়ে ফ্রান্স, গ্রিস ও ইতালিও আপত্তি জানিয়েছিল।
তবে বিবৃতির ভাষা নরম করা হলেও অটোয়ার সঙ্গে ইইউর অংশীদারিত্বের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ম্লান হয়নি।
প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি এবং আর্থিক পরিষেবা খাতকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত বলয় তৈরি করা হবে; যাকে ইইউ ‘অভিন্ন সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা অঞ্চল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।
ডাভোস সম্মেলনে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বিশ্বের ‘মধ্যম শক্তির’ দেশগুলোকে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ভাষণ দেওয়ার পর থেকেই ইউরোপের অনেক নেতা তাঁর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে আসছেন। ওই ভাষণে ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের মতো আগ্রাসী প্রভাবশালী নেতাদের থেকে নিজেদের রক্ষার আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।
ব্রিটেনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে শুরুর বিষয়ে কাজ করা ইউরোপীয় কর্মকর্তারা মনে করছেন, কানাডা সংক্রান্ত এই বিবৃতির বেশিরভাগ অংশই আগামী নভেম্বরের শেষের দিকে লন্ডন ও ব্রাসেলসের মধ্যকার শীর্ষ সম্মেলনে নতুন আঙ্গিকে ব্যবহার করা হবে।
ইউরোপীয় কমিশনের ভেতরে ব্রেক্সিট আলোচনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এখন মনে করছেন, কানাডাকে দেওয়া যেকোনো উদার কিন্তু অস্পষ্ট প্রস্তাবকে ব্রিটেনের কাছ থেকে বাড়তি সুবিধা আদায়ের একটি ‘কৌশলগত হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ব্রিটিশ রাজনীতিক অ্যান্ডি বার্নহ্যামের পুনরায় ইইউতে যোগদানের আগ্রহের পেছনেও এই উদ্বেগ কাজ করছে বলে মনে করা হচ্ছে যে, অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক নানা শর্ত হয়তো কানাডাকে দেওয়া হবে, কিন্তু যুক্তরাজ্য তা পাবে না।


